প্রবাসী কল্যাণ ও ওয়েজ আর্নার্স বোর্ড সেবা সহায়িকা
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, বীমা দাবি, লাশ পরিবহন এবং জরুরি আইনি সহায়তার সার্বিক সরকারি গাইডলাইন।
জরুরি প্রবাসী কল্যাণ হেল্পলাইন (২৪/৭ চালু)
প্রবাসী কল্যাণ কল সেন্টার (টোল-ফ্রি বাংলাদেশ)
১৬১৩৫দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো অপারেটর থেকে বিনামূল্যে ২৪ ঘণ্টা কল করা যায়।
আন্তর্জাতিক প্রবাসবন্ধু হটলাইন (বিদেশ থেকে)
+৮৮০ ৯৬১০১০২০৩০বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে প্রবাসী ভাইবোনেরা সরাসরি জরুরি সহায়তার জন্য ডায়াল করতে পারেন।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কন্ট্রোল রুম
+৮৮০ ২ ৯৩৩৮৮০২বিদেশে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর লাশ পরিবহন ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত অনুসন্ধান।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হেল্পডেস্ক
+৮৮০ ২ ৮৩৯১৯৬৬অভিবাসন ঋণ, পুনর্বাসন ঋণ ও বিদেশগামী কর্মীদের ব্যাংক একাউন্ট সেবা।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মূল সুবিধাসমূহ
১. মৃত প্রবাসীর পরিবারকে আর্থিক অনুদান
বৈধ বিএমইটি স্মার্ট কার্ডধারী কোনো প্রবাসী কর্মী বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ তহবিল থেকে ৩ লাখ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত এককালীন আর্থিক অনুদান ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫,০০০ টাকা বিমানবন্দরে নগদ প্রদান করা হয়।
২. জীবন বীমা ও প্রবাসবন্ধু বীমা সুবিধা
বিএমইটি নিবন্ধিত প্রবাসীদের জন্য সরকারের জীবন বীমা কর্পোরেশনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক বীমা পলিসি চালু রয়েছে। কর্মকালীন দুর্ঘটনাজনিত কারণে পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা সর্বোচ্চ ৪ লক্ষ টাকার বীমা দাবি পেতে পারেন।
৩. প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক অভিবাসন ও পুনর্বাসন ঋণ
নতুন বিদেশযাত্রীদের জন্য নামমাত্র সুদে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন 'অভিবাসন ঋণ' দেওয়া হয়। এছাড়া বিদেশফেরত কর্মীদের দেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ 'পুনর্বাসন ঋণ' সুবিধা বিদ্যমান।
৪. প্রবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি
বিএমইটি নিবন্ধিত মৃত বা আহত প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতি বছর শিক্ষাবৃত্তি ও এককালীন সহায়তা প্রদান করা হয়।
প্রবাসীদের জন্য আইনি পরামর্শ ও সচেতনতা
যেকোনো দেশে কাজের ভিসায় যাওয়ার আগে অবশ্যই জনশক্তি ব্যুরোর (BMET) ডাটাবেজে আপনার ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র নিশ্চিত করুন। অবৈধ পথে বা ভিজিট ভিসায় কাজে গিয়ে বিপদে পড়লে সরকারি বীমা ও আইনি ক্ষতিপূরণ দাবি জটিল হয়ে পড়ে। সর্বদা দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের সাথে যোগাযোগ রাখুন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে অভিবাসন ঋণ পাওয়ার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
বিদেশে বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর অনেক কর্মীই উচ্চ সুদে মহাজনি ঋণ নিতে বা জমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। এই আর্থিক সংকট দূর করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক মাত্র ৯% সরল সুদে দ্রুততম সময়ে 'অভিবাসন ঋণ' এবং দেশে ফিরে আসা কর্মীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য 'পুনর্বাসন ঋণ' প্রদান করে থাকে।
অভিবাসন ঋণের জন্য আবেদনের শর্তাবলী ও চেকলিস্ট:
- ১. বৈধ ভিসা ও চুক্তিপত্র: আবেদনকারীর নামে ইস্যুকৃত বৈধ কাজের ভিসার ফটোকপি, নিয়োগকারী কোম্পানির অফার লেটার বা শ্রম চুক্তিপত্র এবং বিএমইটি রেজিস্ট্রেশন বা স্মার্ট কার্ডের কপি থাকতে হবে।
- ২. পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণ: আবেদনকারীর বৈধ পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলরের নাগরিকত্ব সনদ।
- ৩. জামিনদার (Guarantor) সংক্রান্ত ডকুমেন্ট: ঋণের জামিনদার হিসেবে পরিবারের একজন সক্ষম সদস্য বা স্থানীয় গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির এনআইডি কপি, ছবি ও আয়ের ঘোষণাপত্র জমা দিতে হয়।
- ৪. মেডিকেল ফিটনেস ও ট্রেনিং সনদ: অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের 'FIT' রিপোর্ট এবং প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (PDO) ট্রেনিং সনদের কপি।
বিদেশে বিপদে পড়লে বা বেতন না পেলে করণীয় (ধাপে ধাপে সরকারি সহায়তা)
প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় যদি কোনো নিয়োগকর্তা বা কফিল চুক্তি অনুযায়ী বেতন প্রদান না করেন, আকামা নবায়ন না করেন, পাসপোর্ট আটকে রাখেন কিংবা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন, তবে বিচলিত না হয়ে নিচের সরকারি চ্যানেলগুলোতে অভিযোগ দাখিল করুন:
- দূতাবাসের শ্রম উইং (Labor Wing): সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইংয়ে সশরীরে অথবা ইমেইল ও হটলাইনে আপনার পাসপোর্ট ও ভিসা নম্বরসহ লিখিত অভিযোগ জানান।
- প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার (১৬১৩৫): বাংলাদেশ থেকে আপনার পরিবারের সদস্যরা টোল-ফ্রি ১৬১৩৫ নম্বরে অথবা আপনি নিজে বিদেশ থেকে +৮৮০ ৯৬১০১০২০৩০ নম্বরে কল করে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে তাৎক্ষণিক কেস ফাইল করতে পারেন।
- বিএমইটি অনলাইন অভিযোগ পোর্টাল (ovijog.bmet.gov.bd): যে রিক্রুটিং এজেন্সির (RL নম্বরধারী) মাধ্যমে আপনি বিদেশে গেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা বা চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ সরাসরি বিএমইটির অনলাইন পোর্টালে দাখিল করলে মন্ত্রণালয় শুনানির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা নেয়।