ভিএফএস রেফারেন্স নম্বর (JPN/DAC) এবং পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে জাপান ভিসা চেক করার নিয়ম ২০২৬। COE ভেরিফিকেশন, স্টুডেন্ট, এসএসডব্লিউ ও ভিজিট ভিসা ট্র্যাকিং গাইড।
মুহাম্মদ আরহাম চৌধুরী
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬•53 মিনিট পড়ার সময়
শেয়ার:লিংক কপি হয়েছে!
যেকোনো দেশে গমনের পূর্বে ভিসা অনুমোদনের সত্যতা নিশ্চিত করতে সর্বপ্রথম অফিশিয়াল নির্দেশিকা অনুযায়ী ভিসা চেক করার নিয়ম জানা এবং ডেটাবেজে স্ট্যাটাস যাচাই করা অপরিহার্য। জাপান ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা মেনে চলুন।
জাপান দূতাবাস অনুমোদিত ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ পোর্টালে রেফারেন্স নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অথবা ই-ভিসা পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সরাসরি জাপানি ভিসা ট্র্যাক করা যায়।
জরুরি সারসংক্ষেপ (EXECUTIVE SUMMARY)আপডেট: সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাপান ভিসা চেক করার নিয়ম ২০২৬: বাংলাদেশে জাপান ভিসা আবেদনপত্র মূলত ভিএফএস গ্লোবাল জাপান (VFS Global Japan Dhaka) সেন্টারের মাধ্যমে জমা নেওয়া হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রদত্ত রসিদে থাকা ১৬ থেকে ১৮ ডিজিটের ইউনিক রেফারেন্স কোড (যেমন: JPN/DAC/250926/0142/01) এবং আবেদনকারীর জন্মতারিখ (দিন/মাস/সাল) ব্যবহার করে অফিশিয়াল ভিএফএস ট্র্যাকিং পোর্টালে সরাসরি ভিসার সর্বশেষ অগ্রগতি যাচাই করা যায়। এছাড়া জাপান সরকার অনুমোদিত অনলাইন JAPAN e-Visa Portal-এ অ্যাপ্লিকেশন আইডি ও পাসপোর্ট নম্বর দিয়েও পর্যটক ভিসার স্ট্যাটাস অনুসন্ধান করা সম্ভব।
স্টুডেন্ট, টেকনিক্যাল ইন্টার্ন (TITP) কিংবা স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (SSW) ভিসার ক্ষেত্রে জাপানের অভিবাসন দপ্তর (Immigration Services Agency of Japan - ISA) কর্তৃক ইস্যুকৃত Certificate of Eligibility (COE) থাকা বাধ্যতামূলক। জাপান দূতাবাস ঢাকা (Baridhara Diplomatic Zone) সরাসরি সাধারণ ভিসা আবেদন না নিলেও ভিএফএস থেকে প্রেরিত পাসপোর্টসমূহ চুলচেরা যাচাই-বাছাই ও কাউন্টারফয়েল স্ট্যাম্পিং সম্পন্ন করে।
ভিএফএস রেফারেন্স নম্বর (JPN/DAC) অথবা পাসপোর্ট নম্বর ইনপুট দিয়ে রিয়েল-টাইম কনস্যুলার স্ট্যাটাস যাচাই করুন
PASSPORT READY
মন্ত্রণালয় ডাটাবেজ সিঙ্ক: ২০২৬
আবেদনকারীর নাম:
পাসপোর্ট নম্বর:
ভিসা সাবক্লাস:
সিওই ভেরিফিকেশন:✓ COE Authenticated (ISA Tokyo)
● সর্বশেষ অফিশিয়াল কনস্যুলার স্ট্যাটাস:
"Processed Decision Envelope has been received at the VFS Global Japan Visa Application Centre, Dhaka. Passport with Official Counterfoil Stamp is ready for collection upon presenting original ICR slip and NID."
চিত্র ০১: জাপান ভিসা চেক করার নিয়ম ও VFS ট্র্যাকিং — জাপান দূতাবাস ঢাকা ও অভিবাসন সেবা দপ্তর কনস্যুলার আর্কিটেকচার
১. জাপান ভিসা আবেদন ও অনলাইন চেকিংয়ের রূপরেখা ২০২৬
সূর্যোদয়ের দেশ জাপান বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরাশক্তি। অত্যন্ত সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা, বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নতুন অভিবাসন নীতির কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দক্ষ কারিগরি কর্মীদের কাছে জাপান এক স্বপ্নের গন্তব্য। ২০২৬ সালে জাপানের জনসংখ্যা ঘাটতি মেটাতে ও শিল্পখাতকে গতিশীল রাখতে দেশটির সরকার বিদেশি কর্মীদের জন্য স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (Specified Skilled Worker - SSW) ও স্টুডেন্ট ভিসার সুযোগ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে।
তবে জাপানের অভিবাসন ও ভিসা নীতি শতভাগ কঠোর নিয়ম ও নিখুঁত স্বচ্ছতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি ক্ষুদ্র ভুলের কারণে বা অসম্পূর্ণ নথির জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। ইন্টারনেটে প্রতিদিন হাজার হাজার প্রবাসী ও শিক্ষার্থী japan visa check online bangladesh লিখে অনুসন্ধান করেন। সঠিক নিয়ম না জানায় অনেকেই দালাল চক্রের ভুয়া আশ্বাসে প্রতারিত হন। অথচ একজন আবেদনকারী তার হাতের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই ভিএফএস গ্লোবালের পোর্টালে অথবা জাপানি ই-ভিসা সিস্টেমে পাসপোর্টের সর্বশেষ ট্র্যাকিং জেনে নিতে পারেন।
জাপানি ভিসা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো এর সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি (Certificate of Eligibility - COE / 在留資格認定証明書)। স্বল্পমেয়াদী পর্যটক বা বাণিজ্যিক ভ্রমণ ব্যতীত যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান (যেমন ভাষা শিক্ষা, ডিগ্রি প্রোগ্রাম, টেকনিক্যাল ইন্টার্নশিপ বা স্থায়ী চাকরি)-এর ক্ষেত্রে টোকিওস্থ জাপানি বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অভিবাসন সেবা সংস্থা (Immigration Services Agency of Japan - ISA) থেকে সিওই অনুমোদন নিতে হয়। সিওই হাতে পাওয়ার পরই কেবল ঢাকার ভিএফএস সেন্টারে মূল ভিসার জন্য পাসপোর্ট দাখিল করা যায়।
ভিসা পর্যায়
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ
মূল কার্যক্রম ও ট্র্যাকিং পদ্ধতি
ধাপ ১: সিওই প্রসেসিং (COE)
ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি (ISA), জাপান
জাপানি প্রতিষ্ঠান বা স্পন্সর কর্তৃক আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন ব্যুরোতে আবেদন দাখিল ও অনুমোদন
ধাপ ২: ভিসা সাবমিশন
VFS Global Bangladesh (Dhaka)
ফিজিক্যাল পাসপোর্ট, সিওই ও আবেদনপত্র জমা এবং জেপিএন/ডিএসি রেফারেন্স স্লিপ গ্রহণ
ধাপ ৩: কনস্যুলার মূল্যায়ন
জাপান দূতাবাস ঢাকা (Embassy of Japan)
নথিপত্র যাচাই, প্রয়োজনে সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং পাসপোর্টে ভিসা স্টিকার মুদ্রণ
ধাপ ৪: পোর্ট অব এন্ট্রি
নারিতা / হানেদা বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন
পাসপোর্টে ল্যান্ডিং পারমিশন স্ট্যাম্প এবং তাৎক্ষণিকভাবে বায়োমেট্রিক জায়রু কার্ড প্রদান
২. ভিসা ট্র্যাকিংয়ের প্রধান ৩টি মাধ্যম (VFS Global, Embassy Dhaka ও JAPAN e-Visa)
জাপানি ভিসা সংক্রান্ত অগ্রগতির খোঁজখবর নেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের ৩টি ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করতে হয়। আবেদনের ধরন ও ভিসা ক্যাটাগরির ওপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট ট্র্যাকিং মাধ্যমটি বাছাই করা আবশ্যক:
ক. ভিএফএস গ্লোবাল বাংলাদেশ অনলাইন ট্র্যাকিং (VFS Tracking Portal)
বাংলাদেশে সাধারণ স্টুডেন্ট, কর্মী ও সাধারণ পর্যটকদের ভিসা আবেদন গ্রহণের একমাত্র কনস্যুলার পার্টনার ভিএফএস গ্লোবাল। ঢাকায় অবস্থিত ভিএফএস সেন্টারে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীকে একটি ডেলিভারি রসিদ (Inquiry / Courier Receipt) দেওয়া হয়। এই রসিদে উল্লেখিত রেফারেন্স কোড দিয়ে ইন্টারনেটে vfs global japan tracking bangladesh লিখে সার্চ করে পোর্টাল থেকে রিয়েল-টাইম পাসপোর্ট ট্র্যাকিং করা যায়। পাসপোর্টটি বর্তমানে দূতাবাসে চিকিৎসাধীন রয়েছে নাকি সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর ভিএফএস কাউন্টারে ফেরত এসেছে তা স্পষ্ট দেখা যায়।
খ. জাপান দূতাবাস ঢাকা কনস্যুলার সেকশন (Direct Embassy Channel)
কূটনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তা, জরুরি মানবিক চিকিৎসা প্রয়োজনে ভ্রমণকারী, এবং মেক্সট (MEXT) সরকারি স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সরাসরি জাপান দূতাবাসে আবেদন দাখিল করেন। এছাড়া ভিএফএস থেকে প্রেরিত কোনো আবেদনপত্রে গুরুতর অসঙ্গতি বা জাল সনদের সন্দেহ দেখা দিলে জাপান দূতাবাস আবেদনকারীকে সরাসরি কনস্যুলার সাক্ষাতকারের জন্য ডেকে পাঠায়। দূতাবাসের অফিসিয়াল ইমেইল বা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করেও সরাসরি ফাইল স্ট্যাটাস জানা যায়।
স্বল্পমেয়াদী একক প্রবেশযোগ্য পর্যটক ভিসার জন্য জাপান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) উন্মোচন করেছে ইলেকট্রনিক ভিসা পোর্টাল (www.evisa.mofa.go.jp)। অনলাইনে আবেদন করার পর প্রার্থীরা তাদের ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সিস্টেমে ঢুকে সরাসরি 'Application Under Examination', 'Fee Payment Required' কিংবা 'Digital Visa Issued' স্ট্যাটাস দেখতে পারেন। এই সিস্টেমে পাসপোর্টে কোনো ফিজিক্যাল স্টিকার লাগানোর প্রয়োজন হয় না; বরং স্মার্টফোনে ইলেকট্রনিক ভিসা প্রদর্শন করলেই বিমানে চড়ার অনুমতি মেলে।
চিত্র ০২: VFS গ্লোবাল জাপান ট্র্যাকিং পোর্টাল কনসোল — রেফারেন্স নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে অনলাইন পাসপোর্ট ট্র্যাকিং ড্যাশবোর্ড
৩. ভিএফএস রেফারেন্স নম্বর (JPN/DAC) দিয়ে ধাপে ধাপে ভিসা চেক করার নিয়ম
বাংলাদেশে অবস্থিত জাপান ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (VAC) পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর আবেদনকারীকে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকতে হয় না। প্রক্রিয়াটি শতভাগ ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত। ইন্টারনেটে প্রতিদিন বহু প্রার্থী japan visa reference number check অথবা passport number diye japan visa check লিখে খোঁজ করেন। তবে সবচেয়ে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ফলাফল পেতে ভিএফএসের মূল ট্র্যাকিং পৃষ্ঠা ব্যবহার করতে হয়।
নিচে ধাপে ধাপে ভিএফএস রেফারেন্স নম্বর দিয়ে জাপান ভিসা আবেদন অনুসন্ধানের পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলী তুলে ধরা হলো:
অফিশিয়াল ভিএফএস ট্র্যাকিং পোর্টালে প্রবেশ: আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল ব্রাউজারে গিয়ে টাইপ করুন https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/jpn/track-application। পেজের শীর্ষে VFS Global এবং জাপান সরকারের প্রতীকযুক্ত ইন্টারফেস দৃশ্যমান হবে।
রেফারেন্স নম্বর (Reference Number) সংগ্রহ: পাসপোর্ট ও সিওই জমা দেওয়ার সময় ভিএফএস কাউন্টার থেকে যে মানি রসিদ (Inquiry Custody Receipt - ICR) দেওয়া হয়েছে, তার উপরের ডান কোণায় থাকা বারকোডের নিচে ১৬-১৮ সংখ্যার রেফারেন্স নম্বরটি লক্ষ্য করুন। এটি সাধারণত JPN/DAC/DDMMYY/XXXX/XX ফরম্যাটে থাকে (যেমন: JPN/DAC/250926/0142/01)।
রেফারেন্স নম্বর ইনপুট: পোর্টালের প্রথম বক্সে আপনার রেফারেন্স নম্বরটি হুবহু টাইপ করুন। কোনো স্পেস বা ভুল স্ল্যাশ দেওয়া যাবে না।
আবেদনকারীর জন্মতারিখ প্রদান: দ্বিতীয় বক্সে পাসপোর্ট অনুযায়ী আবেদনকারীর জন্মতারিখ (দিন/মাস/সাল বা DD/MM/YYYY) নির্বাচন করুন। ক্যালেন্ডার আইকন ব্যবহার করে সঠিক বছর ও মাস নির্ধারণ করা নিরাপদ।
ক্যাপচা ও সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স: স্ক্রিনে প্রদর্শিত বর্ণ ও সংখ্যার ক্যাপচা (Security Code) সতর্কতার সাথে টাইপ করুন।
সাবমিট ও রেজাল্ট প্রদর্শন: 'Submit' বাটনে ক্লিক করার সাথে সাথে স্ক্রিনে আবেদনপত্রের বর্তমান অবস্থা একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যাটাস কার্ডে প্রদর্শিত হবে।
যদি পোর্টালে 'Application has been forwarded to the Embassy of Japan' দেখায়, তবে বুঝতে হবে ফাইলটি মূল দূতাবাসে ভিসা অফিসারের মূল্যায়নাধীন রয়েছে। আর যদি 'Processed passport has been received at the Japan Visa Application Centre' বার্তা দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ শেষ এবং পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
চিত্র ০৩: জাপান দূতাবাস ঢাকা কনস্যুলার হল — বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চলে সরাসরি সাক্ষাৎকার ও কনস্যুলার মূল্যায়ন উইং
৪. জাপান দূতাবাস ঢাকা (বারিধারা) কনস্যুলার উইং ও সরাসরি ইনকোয়ারি প্রোটোকল
ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাস (Embassy of Japan in Bangladesh) বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও সক্রিয় কূটনৈতিক মিশন। দূতাবাসটি বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ৫ ও ৭ নম্বর প্লট, দূতাবাস রোডে অবস্থিত। যদিও সাধারণ ভিসা আবেদনসমূহ ভিএফএস সেন্টারে গৃহীত হয়, কিন্তু ভিসা ইস্যু, রিফিউজাল সিদ্ধান্ত এবং আসল পাসপোর্ট স্ট্যাম্পিংয়ের শতভাগ সার্বভৌম কর্তৃত্ব শুধুমাত্র এই দূতাবাসের কনস্যুলার বিভাগের হাতে।
যারা ইন্টারনেটে japan embassy dhaka visa processing time বা সরাসরি যোগাযোগের নিয়ম জানতে চান, তাদের জন্য দূতাবাসের কার্যপ্রণালী নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
সাধারণ প্রক্রিয়াকরণ সময়সীমা: ভিএফএসে আবেদন জমার পর সাধারণত ৫ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাধারণ ভিজিট ও স্টুডেন্ট ভিসা সম্পন্ন হয়। তবে মে বা নভেম্বর মাসে স্টুডেন্ট ইনটেকের সময় ফাইলের চাপ বেশি থাকলে প্রসেসিং ১০ থেকে ১৫ কর্মদিবস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
কনস্যুলার সাক্ষাৎকার ও টেলিফোনিক যাচাই: আবেদনপত্রে যদি কোনো ব্যাংক হিসাবের ব্যালেন্স, আয়ের উৎস বা জাপানি ভাষা সনদের বিষয়ে ভিসা অফিসারের সংশয় তৈরি হয়, তবে দূতাবাস থেকে আবেদনকারীর মোবাইলে সরাসরি ফোন করা হয় অথবা দূতাবাসে ডেকে মুখোমুখি মৌখিক সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এই সাক্ষাৎকারে জাপানি ভাষার মৌলিক জ্ঞান (যেমন: অভিবাদন, পরিচয় ও জাপানে যাওয়ার উদ্দেশ্য) পরীক্ষা করা হতে পারে।
মেক্সট (MEXT) ও সরকারি অতিথি উইং: জাপান সরকারের বিশেষ বৃত্তিপ্রাপ্ত গবেষক ও শিক্ষার্থীদের ভিএফএসে যেতে হয় না; তারা সরাসরি দূতাবাসের কালচারাল উইংয়ে ফাইল জমা দেন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিসা প্রাপ্ত হন।
অফিশিয়াল ইমেইল ইনকোয়ারি প্রোটোকল: ভিসা প্রক্রিয়া যদি নির্ধারিত ১৫ কর্মদিবস অতিক্রম করে, তবে আবেদনকারী তার রেফারেন্স নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর ও পূর্ণ নাম উল্লেখ করে দূতাবাসের কনস্যুলার উইং বরাবর ইমেইল (visa@dc.mofa.go.jp) পাঠিয়ে কেস স্ট্যাটাস জানতে চাইতে পারেন।
চিত্র ০৪: জাপানি ভিসা স্টিকার ও ল্যান্ডিং পারমিশন অ্যানাটমি — চেরি ব্লসম জলছাপ, কাইনেগ্রাম হলোগ্রাম ও বিমানবন্দর এন্ট্রি স্লিপ
৫. জাপানি ভিসা স্টিকারের সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য ও ল্যান্ডিং পারমিশন (Landing Permission) স্লিপ অ্যানাটমি
পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রার্থীকে নিশ্চিত হতে হবে যে ভিসাটি খাঁটি এবং এতে কোনো প্রযুক্তিগত অসঙ্গতি নেই। জাপানি ভিসা স্টিকার বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত সরকারি নথি। এতে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (ICAO Doc 9303) মানদণ্ডের বহুস্তরীয় নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। ইন্টারনেটে japan visa sticker counterfoil verification লিখে অনুসন্ধান করে আবেদনকারীরা স্টিকারের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো যাচাই করে নিতে পারেন:
চেরি ব্লসম (Sakura) জলছাপ ও ব্যাকগ্রাউন্ড: স্টিকারের পুরো জমিন জুড়ে হালকা গোলাপি ও সিলভার রঙের ঐতিহ্যবাহী জাপানি সাকুরা বা চেরি ফুলের সূক্ষ্ম মাইক্রো-প্যাটার্ন মুদ্রিত থাকে, যা রঙিন ফটোকপিতে ঘোলাটে হয়ে যায়।
অপটিক্যাল কাইনেগ্রাম (Kinegram Hologram): স্টিকারের বাম বা উপরের অংশে ধাতব প্রতিফলক স্ট্রিপ থাকে। আলোর কোণ পরিবর্তন করলে এতে জাপানের ক্রাইস্যান্থিমাম রাজকীয় সিলমোহর এবং 'JAPAN VISA' লেখা থ্রিডি স্টাইলে দৃশ্যমান হয়।
লাল রঙের লেজার সিরিয়াল নম্বর: স্টিকারের ডান কোণায় বিশেষ লাল কালিতে প্রিন্ট করা ইউনিক আলফানিউমেরিক ভিসা নম্বর (যেমন: AB1234567) থাকে।
মেশিন রিডেবল জোন (MRZ): স্টিকারের নিচের দুটি লাইনে আন্তর্জাতিক ওআইসিআর ফন্টে মুদ্রিত কোড থাকে (যেমন: VJAPNCHOWDHURY<)। এই লাইনে পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ ও ভিসার মেয়াদ এনকোড করা থাকে।
ল্যান্ডিং পারমিশন (Landing Permission - 上陸許可) স্লিপ: গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি বিষয় মনে রাখা জরুরি—পাসপোর্টের স্টিকারটি শুধুই জাপানের সীমান্ত পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি। জাপানে পৌঁছানোর পর নারিতা বা হানেদা এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন অফিসার পাসপোর্টে একটি ছোট কিউআর কোড সম্বলিত স্টিকার সাঁটিয়ে দেন যার নাম Landing Permission। এই স্লিপেই লেখা থাকে আপনার অবস্থানের অনুমোদিত দিন (Duration of Stay: যেমন 1 Year, 3 Years ইত্যাদি) এবং স্ট্যাটাস অব রেসিডেন্স (Status: College Student বা SSW)।
৬. ভিসা আবেদনের পূর্ণাঙ্গ লাইফসাইকেল ও প্রতিটি স্ট্যাটাস বার্তার ব্যবহারিক অর্থ
জাপানি ভিসা প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধারাবাহিক এবং সুসংগঠিত। টোকিও অভিবাসন ব্যুরো থেকে সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি (COE) ইস্যু হওয়ার পর থেকে শুরু করে ঢাকার ভিএফএস কাউন্টারে পাসপোর্ট জমা এবং জাপানের বিমানবন্দরে অবতরণ পর্যন্ত পুরো যাত্রায় মোট ৬টি মাইলফলক অতিক্রম করতে হয়:
মাইলফলক ১: সিওই অনুমোদন (COE Issuance by ISA Tokyo): জাপানের স্পনসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়, ভাষা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা নিয়োগকারী কোম্পানি জাপানের আঞ্চলিক অভিবাসন ব্যুরোতে প্রার্থীর পক্ষে সিওই আবেদন করে। অনুমোদন মিললে একটি ইলেকট্রনিক পিডিএফ অথবা মূল কাগজের সিওই ইস্যু করা হয়। এই নথির বৈধতার মেয়াদ ইস্যু তারিখ থেকে ঠিক ৩ মাস।
মাইলফলক ২: ভিএফএস সেন্টারে ফাইল জমা (Application Submission at VAC): সিওই, ছবি, ব্যাংক সলভেন্সি এবং ভিসা আবেদনপত্র পূরণ করে ঢাকার ডেল্টা লাইফ টাওয়ারে অবস্থিত ভিএফএস সেন্টারে সরাসরি জমা দেওয়া হয়। জমা শেষে আবেদনকারীকে একটি ইউনিক রেফারেন্স নম্বর সম্বলিত রসিদ দেওয়া হয়।
মাইলফলক ৩: দূতাবাস মূল্যায়ন (Application Forwarded to Embassy): ভিএফএস থেকে কূটনৈতিক সিকিউরড কুরিয়ারের মাধ্যমে পাসপোর্ট ও ফাইলটি বারিধারার জাপান দূতাবাসে পাঠানো হয়। ট্র্যাকিং পোর্টালে স্ট্যাটাস আসে 'Application Under Process at Embassy of Japan'। এই ধাপে কনস্যুলার অফিসাররা প্রার্থীর একাডেমিক কাগজপত্র ও আর্থিক সক্ষমতা খতিয়ে দেখেন।
মাইলফলক ৪: সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সিলগালা খাম (Processed Decision Envelope): ভিসা বিবেচনা শেষ হলে পাসপোর্টটিতে স্টিকার সাঁটানো হয় অথবা কারণপত্র সহ সিলগালা খামে ভিএফএসে ফেরত পাঠানো হয়। পোর্টালে স্ট্যাটাস আসে 'Processed Decision Envelope Received at VAC'। এই পর্যায়ে কিন্তু অনলাইনে সরাসরি দেখা যায় না ভিসা হয়েছে কি হয়নি; ফলাফল সিলগালা খামের ভেতর থাকে।
মাইলফলক ৫: পাসপোর্ট সংগ্রহ (Passport Collection at VAC): আবেদনকারী তার মূল আইসিআর রসিদ এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নিয়ে ভিএফএস থেকে খামটি সংগ্রহ করেন এবং খাম খুলে পাসপোর্টে জ্বলজ্বলে জাপানি ভিসা স্টিকার দেখতে পান।
মাইলফলক ৬: জাপানের সীমান্তে এন্ট্রি (Border Clearance & Residence Card): ফ্লাইটে চড়ে জাপানের নারিতা, হানেদা বা কানসাই বিমানবন্দরে অবতরণের পর ইমিগ্রেশন ডেস্কে পাসপোর্ট ও সিওই জমা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বায়োমেট্রিক জায়রু কার্ড (Zairyu Card) প্রিন্ট করে প্রদান করা হয়।
জাপান অভিবাসন আইনে বিদেশি নাগরিকদের জন্য প্রায় ৩০টিরও বেশি রেসিডেন্স স্ট্যাটাস সংরক্ষিত রয়েছে। বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে সবচেয়ে বহুল প্রচলিত এবং চাহিদা সম্পন্ন ৫টি প্রধান ভিসা ক্যাটাগরির বিস্তারিত শর্তাবলী ও কাজের অধিকার নিচে ম্যাট্রিক্স আকারে তুলে ধরা হলো:
ভিসা ক্যাটাগরি
জাপানি নাম
কাজের অধিকার (Work Rights)
অনুমোদিত অবস্থান ও স্পন্সরশিপ
Student Visa
留学 (Ryūgaku)
পারমিট সহ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৮ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ (ছুটিতে দিনে ৮ ঘণ্টা)
৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত (ডিগ্রি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নবায়নযোগ্য)
Specified Skilled (SSW i)
特定技能 1号
নির্দিষ্ট ১২টি শিল্পখাতে জাপানিদের সমবেতনে ফুলটাইম কাজের অধিকার
সর্বোচ্চ ৫ বছর (SSW ii পাস করলে পরিবার আনা ও স্থায়ী নাগরিকত্ব)
Technical Intern (TITP)
技能実習 (Ginō Jisshū)
কারিগরি প্রশিক্ষণ চুক্তি অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক কারখানায় কাজ
৩ থেকে ৫ বছর (চুক্তি শেষে নতুন ট্রেনিং-এ রূপান্তরযোগ্য)
Temporary Visitor
短期滞在 (Tanki Taizai)
কোনো প্রকার বেতনভুক্ত কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ (Strictly No Work)
১৫ দিন, ৩০ দিন বা সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত পর্যটন ও আত্মীয়স্বজন ভ্রমণ
Highly Skilled Professional
高度専門職 (Kōdo Senmonshoku)
আইটি, রিসার্চ ও কর্পোরেট ম্যানেজমেন্টে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা
৫ বছর মেয়াদ এবং মাত্র ১ থেকে ৩ বছরে গ্রিন কার্ড (PR) প্রাপ্তির সুযোগ
চিত্র ০৭: নারিতা বিমানবন্দরে জাপানি ইমিগ্রেশন ও জায়রু কার্ড ইস্যু — প্রধান আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে স্মার্ট কিয়স্ক ক্লিয়ারেন্স
৮. নারিতা ও হানেদা বিমানবন্দরে জাপানি ইমিগ্রেশন ও জায়রু কার্ড (Zairyu Card) প্রাপ্তি
টোকিওর নারিতা (NRT), হানেদা (HND), ওসাকার কানসাই (KIX) কিংবা নাগোয়ার চুবু সেন্ট্রেয়ার (NGO) বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর আন্তর্জাতিক অভিবাসীদের জন্য জাপানের মূল পরিচয়পত্র ইস্যু করার চমৎকার অবকাঠামো রয়েছে। যারা মধ্যম বা দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্স ভিসা (যেমন স্টুডেন্ট বা এসএসডব্লিউ) নিয়ে জাপানে প্রবেশ করেন, তাদের ইমিগ্রেশন কাউন্টারেই তাৎক্ষণিকভাবে একটি আইসি-চিপযুক্ত রেসিডেন্স কার্ড (在留カード - Zairyu Card) প্রিন্ট করে প্রদান করা হয়।
ইমিগ্রেশন কাউন্টারে উপস্থিত হওয়ার সময় যে প্রক্রিয়াগুলো ঘটে:
বায়োমেট্রিক আইরিশ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান: জাপানের প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ডিজিটাল এন্ট্রিসিস্টেমে উভয় হাতের তর্জনীর আঙুলের ছাপ এবং ক্যামেরার মাধ্যমে চেহারার ডিজিটাল ফটোগ্রাফ গ্রহণ করা হয়।
সিওই ও ডিসembarkation কার্ড প্রদর্শন: বিমানে পূরণকৃত 'Embarkation / Disembarkation Card', মূল পাসপোর্ট এবং সিওই (COE) পেপার অফিসারকে প্রদান করতে হয়।
জায়রু কার্ড গ্রহণ (Instant Card Printing): অফিসার পাসপোর্টে ল্যান্ডিং পারমিশন স্লিপ সাঁটানোর পাশাপাশি বিশেষ প্রিন্ট মেশিনে মাত্র দুই মিনিটে প্লাস্টিক চিপযুক্ত জায়রু কার্ড প্রস্তুত করে প্রার্থীর হাতে তুলে দেন। এই কার্ডে প্রার্থীর জাপানি ঠিকানা লেখার খালি জায়গা থাকে, যা পরবর্তীতে স্থানীয় ওয়ার্ড অফিসে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়।
পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিট স্ট্যাম্প (資格外活動許可): স্টুডেন্টদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো—বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ত্যাগ করার আগেই Application for Permission to Engage in Activity other than that Permitted under the Status of Residence Previously Granted ফর্মটি জমা দিন। অফিসার তৎক্ষণাৎ জায়রু কার্ডের পেছনে কালো কালিতে 'সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা কাজের অনুমতি' সংক্রান্ত সিল মেরে দেবেন। বিমানবন্দরে এই সিল না নিলে পরবর্তীতে আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে পারমিট নিতে কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়।
চিত্র ০৮: জাপান ভিসা ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও আর্থিক সলভেন্সি চেকলিস্ট — ২৫-৩০ লাখ টাকা লিকুইড ব্যালেন্স ও ৩ বছরের ট্যাক্স রিটার্ন ম্যাট্রিক্স
৯. সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি (COE) ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট সলভেন্সি চেকলিস্ট
জাপানি ভিসা ও সিওই আবেদনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অধ্যায় হলো আর্থিক সক্ষমতার নিশ্চয়তা (Proof of Financial Support / 経費支弁書 - Keihishibensho)। জাপানি অভিবাসন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চায় যে জাপানে অবস্থানকালে প্রার্থী টিউশন ফি এবং নিজের জীবিকা নির্বাহ করতে সক্ষম, নাকি অবৈধভাবে কাজ খুঁজতে গিয়ে আইন ভঙ্গ করবেন।
স্টুডেন্ট এবং প্রশিক্ষণার্থী ভিসার জন্য যে আর্থিক মানদণ্ডগুলো কঠোরভাবে রক্ষা করতে হয়:
ন্যূনতম ব্যাংক ব্যালেন্স (Liquid Funds): স্পন্সরের ব্যাংক হিসাবে ন্যূনতম ২৫ থেকে ৩০ লাখ বাংলাদেশি টাকা (জাপানি মুদ্রায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ ইয়েন - JPY) স্থিতিশীল ব্যালেন্স থাকতে হবে। এটি কোনোভাবেই ধার করা বা আবেদনের কয়েকদিন আগে হঠাৎ জমা হওয়া (Sudden Inflated Money) অর্থ হওয়া চলবে না।
স্পন্সরের সাথে রক্তের সম্পর্ক (Family Kinship): জাপানি অভিবাসন সাধারণত বাবা, মা অথবা রক্তের ভাই-বোন ব্যতীত দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের স্পনসরশিপ সহজে গ্রহণ করে না। স্পন্সরের সাথে প্রার্থীর পারিবারিক সম্পর্ক প্রমাণের জন্য ইংরেজি জন্মসনদ ও পারিবারিক প্রত্যায়নপত্র (Relationship Certificate) প্রদান করতে হয়।
আয়ের বৈধ উৎস (Source of Funds): ব্যাংক ব্যালেন্সের প্রতিটি পয়সার পরিষ্কার উৎস থাকতে হবে। যদি স্পন্সর ব্যবসায়ী হন, তবে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, টিন (TIN) সার্টিফিকেট এবং বিগত ৩ বছরের আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return - ITR) ও ট্যাক্স জমার চালানপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
চাকরিজীবী স্পন্সর হলে: স্পন্সর যদি চাকরি করেন, তবে প্রতিষ্ঠানের প্যাডে স্যালারি সার্টিফিকেট, মাসিক পে-স্লিপ এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ব্যাংক স্যালারি ট্রান্সফারের ধারাবাহিক হিস্ট্রি প্রদর্শন করতে হয়।
চিত্র ০৯: জাপানি ভাষা দক্ষতা সনদ ও একাডেমিক মূল্যায়ন — JLPT N5/N4 এবং NAT-TEST সার্টিফাইড ভাষা রিকগনিশন
১০. জাপানি ভাষা দক্ষতা সনদ (JLPT / NAT-TEST) ও একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই
জাপানি সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে ভাষার অবস্থান অনস্বীকার্য। ভাষা না জেনে জাপানে গিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব বিধায় ভিসা মঞ্জুরির ক্ষেত্রে ভাষা দক্ষতাকে প্রাথমিক মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয়। বিশেষ করে স্টুডেন্ট ভিসা এবং স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (SSW) ক্যাটাগরিতে সরকারি স্বীকৃত ভাষা সার্টিফিকেট ছাড়া সিওই কিংবা ভিসা পাওয়া যায় না।
জাপান সরকার কর্তৃক স্বীকৃত মূল ভাষা পরীক্ষাসমূহ:
JLPT (Japanese Language Proficiency Test): বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য জাপানি ভাষা পরীক্ষা। বছরে দুবার (জুলাই ও ডিসেম্বর) ঢাকায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্টুডেন্ট ভিসায় সিওই প্রাপ্তির জন্য ন্যূনতম JLPT N5 এবং কর্মসংস্থানমুখী ভিসার জন্য JLPT N4 সার্টিফিকেট থাকা প্রয়োজন।
NAT-TEST: প্রতি দুই মাস অন্তর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এর স্কোর ও সনদ জাপানি অভিবাসন দপ্তরে JLPT এর সমতুল্য হিসেবে ১০০% গৃহীত হয়। জরুরি ইনটেকের জন্য এটি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
J-CERT ও TOPJ: কারিগরি ও ব্যবহারিক যোগাযোগের জন্য এই পরীক্ষাসমূহও স্বীকৃত।
১৫০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ সনদ (150 Hours Study Certificate): জাপানি ভাষা একাডেমি থেকে ন্যূনতম ১৫০ ঘণ্টার আনুষ্ঠানিক ক্লাস করার প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট ফাইল সাবমিশনে অপরিহার্য। তবে কেবল সনদপত্র থাকলেই হবে না—দূতাবাস থেকে ফোন করে যদি হিরাগানা/কাতাকানা বা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাওয়া হয়, তবে প্রার্থীকে সাবলীলভাবে উত্তর দিতে হবে।
স্টাডি গ্যাপের সীমা (Study Gap Rule): এইচএসসি বা ডিগ্রির পর ৫ বছরের বেশি স্টাডি গ্যাপ থাকলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এই বিরতির সময়ে যদি কোনো বাস্তব প্রাসঙ্গিক চাকরির অভিজ্ঞতা থাকে এবং তার বৈধ পে-স্লিপ থাকে, তবে যুক্তিসঙ্গত স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) দিয়ে ফাইল মজবুত করা যায়।
জাপানে উচ্চ বেতনের লোভ দেখিয়ে অসাধু দালাল চক্র ও লাইসেন্সবিহীন ভুয়া এজেন্সিগুলো হরহামেশাই সাধারণ মানুষকে নকল সিওই (Certificate of Eligibility) এবং কম্পিউটারে এডিট করা জাপানি ভিসা ধরিয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। অনেকেই প্রশ্ন করেন fake japan visa scam check কীভাবে করবেন? নিচে আসল ও নকল সিওই চেনার পরীক্ষিত ফরেনসিক পদ্ধতি উল্লেখ করা হলো:
ডিজিটাল সিওই ও কিউআর কোড ভেরিফিকেশন: আধুনিক ইলেকট্রনিক সিওই-তে একটি ইউনিক বারকোড ও কিউআর কোড থাকে। এটি স্ক্যান করলে টোকিও ইমিগ্রেশন সার্ভিসের অথেনটিকেশন ডাটাবেজের লিংক প্রদর্শন করে। নকল সিওইতে কোনো কাজ করে না বা ভুল তথ্য আসে।
কাগজের সিওইতে ওয়াটারমার্ক: আসল ফিজিক্যাল সিওই কাগজে মুদ্রিত থাকে এবং আলোতে ধরলে জাপানের আইন মন্ত্রণালয়ের সূক্ষ্ম জলছাপ দেখা যায়। কোনো সাধারণ রঙিন ফটোকপি বা পিডিএফ প্রিন্ট কাগজ কখনো আসল হতে পারে না।
ভাষা ও দক্ষতা পরীক্ষা ছাড়া জাপানে চাকরির প্রলোভন: কোনো দালাল যদি দাবি করে যে ভাষা না জেনে কিংবা কোনো ইন্টারভিউ ও স্কিল টেস্ট ছাড়া জাপানে ফ্যাক্টরি বা রেস্টুরেন্টে ৩ লাখ টাকা বেতনের ভিসা করে দেওয়া হবে, তবে তা শতভাগ জালিয়াতি। জাপানি শ্রম ও অভিবাসন আইন এতটাই কঠোর যে পরীক্ষা ছাড়া কোনো বিদেশি কর্মী প্রবেশ করতে পারে না।
ভিএফএস গ্লোবালের রশিদ ছাড়া ভিসা: জাপানি ভিসা কখনোই কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে গোপনে লাগানো সম্ভব নয়। প্রতিটি ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের পূর্বে ভিএফএসে পাসপোর্ট জমা এবং অফিশিয়াল ট্র্যাকিং কোড জেনারেট হওয়া বাধ্যতামূলক।
১২. জাপান ভিসা রিফিউজাল বা প্রত্যাখ্যাত হলে করণীয় ও মূল কারণসমূহ
জাপানি ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে পাসপোর্টের কোনো পেজে লাল কালির রিফিউজাল সিল মারা হয় না। বরং পাসপোর্টটি সাদা অবস্থায় ফেরত দেওয়া হয় এবং সাথে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র দেওয়া হয় যাতে সুনির্দিষ্ট আইনি রেফারেন্স উল্লেখ থাকে। জাপান অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও শরণার্থী স্বীকৃতি আইন (Immigration Control and Refugee Recognition Act - ICRRA) অনুযায়ী সাধারণত যে কারণগুলোতে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হয়:
ধারা ৭(১)(২) [Article 7, Paragraph 1, Item 2]: প্রার্থীর জাপানে প্রবেশের উদ্দেশ্য এবং জমা দেওয়া কাগজপত্র নির্ভরযোগ্য বা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। বিশেষ করে ব্যাংকের টাকার উৎস নিয়ে সন্দেহ হলে এই ধারায় ফাইল বাতিল হয়।
ভাষাগত অযোগ্যতা ও সাক্ষাৎকারে ব্যর্থতা: দূতাবাসে মৌখিক সাক্ষাৎকারের সময় প্রার্থী যদি জাপানি বর্ণমালা পড়তে না পারেন বা নিজের নাম ও পরিবার সম্পর্কে সাধারণ জাপানি বাক্যে উত্তর দিতে ব্যর্থ হন, তবে ভিসা সরাসরি নাকচ হয়ে যায়।
অসম্পূর্ণ বা সম্পাদিত নথি (Tampered Documents): শিক্ষা বোর্ডের জাল সার্টিফিকেট বা কম্পিউটারে এডিট করা ব্যাংক সলভেন্সি ধরা পড়লে কেবল বর্তমান আবেদনই বাতিল হয় না, বরং জাপানি ডাটাবেজে প্রার্থীকে দীর্ঘমেয়াদে কালো তালিকাভুক্ত (Blacklisted) করা হয়।
চিত্র ১১: জাপান ভিসা দ্বিতীয়বার আবেদন ও রিঅ্যাপ্লিকেশন প্রোটোকল — ৬ মাসের বিধিনিষেধ ও ত্রুটিমুক্ত ফাইল পুনর্গঠন
১৩. ৬ মাসের বাধ্যবাধকতা ও দ্বিতীয়বার সফলভাবে ভিসা আবেদনের প্রোটোকল
জাপানি অভিবাসন বিধিমালার একটি অত্যন্ত কঠোর নিয়ম হলো '৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা নীতি (Six-Month Reapplication Bar)'। যদি কোনো প্রার্থীর ভিসা আবেদন দূতাবাস কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়, তবে পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে একই উদ্দেশ্যে পুনরায় নতুন কোনো আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয় না।
দ্বিতীয়বার আবেদনের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে:
উদ্দেশ্যের মৌলিক পরিবর্তন: আপনি যদি ট্যুরিস্ট ভিসায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে থাকেন, তবে পরবর্তী সপ্তাহে পুনরায় ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য ফাইল জমা দিতে পারবেন না। তবে যদি আপনি ইতোমধ্যে কোনো জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে থাকেন এবং আপনার অনুকূলে বিচার মন্ত্রণালয় নতুন একটি সিওই (COE) ইস্যু করে থাকে, তবে সেই ভিন্ন উদ্দেশ্যে ৬ মাসের পূর্বেই আবেদন দাখিল করা সম্ভব।
প্রত্যাখ্যানের আসল কারণ অনুসন্ধান: সরাসরি দূতাবাস কখনো রিফিউজালের বিস্তারিত কারণ মুখে বলে না। তবে প্রার্থীর স্পন্সর প্রতিষ্ঠান টোকিওর আঞ্চলিক অভিবাসন ব্যুরোতে গিয়ে তাদের আবেদনপত্রের ত্রুটি সম্পর্কে তথ্য জানতে পারে।
ত্রুটি সংশোধন ও অতিরিক্ত প্রমাণপত্র সংযোজন: দ্বিতীয়বার আবেদনকালে পূর্ববর্তী ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। যদি আয়ের উৎসে ঘাটতি থাকে, তবে নতুন ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট, অতিরিক্ত লিকুইড এফডিআর বা জমির খাজনা রসিদ যুক্ত করে যুক্তিপূর্ণ কাভার লেটার জমা দিতে হবে।
চিত্র ১২: জাপানি ওয়ার্ড অফিসে সিটি রেজিস্ট্রেশন ও জুমিনহিয়ো — ১৪ দিনের মধ্যে রেসিডেন্স কার্ডে ঠিকানা প্রিন্ট ও জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা
১৪. জাপানে পৌঁছানোর পর করণীয়: সিটি ওয়ার্ড অফিসে জুমিনহিয়ো (Juminhyo) ও স্বাস্থ্যবীমা
জাপানের মাটিতে পা রাখার সাথে সাথেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং আইনিভাবে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য বেশ কিছু বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়:
ওয়ার্ড অফিসে ঠিকানা নিবন্ধন (住民登録 - Juminhyo Registration): জাপানে বাসস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর ঠিক ১৪ ক্যালেন্ডার দিনের মধ্যে স্থানীয় সিটি হল বা ওয়ার্ড অফিসে (Kuyakusho বা Shiyakusho) গিয়ে স্থায়ী ঠিকানা নিবন্ধন করতে হয়। কর্মকর্তা আপনার জায়রু কার্ডের পেছনের অংশে লেজার প্রিন্টে আপনার ঠিকানাটি খোদাই করে দেবেন। নির্ধারিত ১৪ দিনের মধ্যে ঠিকানা না লেখালে রেসিডেন্স স্ট্যাটাস বাতিল হতে পারে।
জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা গ্রহণ (国民健康保険 - National Health Insurance): ওয়ার্ড অফিসেই স্বাস্থ্যবীমার কার্ডের জন্য আবেদন করতে হয়। এর ফলে জাপানের যেকোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে মোট চিকিৎসার ব্যয়ের ৭০% রাষ্ট্র বহন করে এবং শিক্ষার্থী বা কর্মী মাত্র ৩০% খরচে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা লাভ করেন।
মাই নাম্বার কার্ড (My Number Card - マイナンバー): জাপানের ১২-সংখ্যার ইউনিক ট্যাক্স ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ডের জন্য আবেদন করতে হয়, যা জাপানি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা ও পার্টটাইম চাকরির বেতন উত্তোলনের জন্য অপরিহার্য।
উত্তর: রেফারেন্স নম্বর সাধারণত JPN/DAC/DDMMYY/XXXX/XX ফরম্যাটে থাকে (যেমন: JPN/DAC/250926/0142/01)। এটি ভিএফএসে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সময় প্রদত্ত কাউন্টার রসিদে স্পষ্টভাবে মুদ্রিত থাকে।
প্রশ্ন ৩: সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি (COE) কী এবং এটি কে ইস্যু করে?
উত্তর: COE (Certificate of Eligibility) হলো জাপানি বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি (ISA) কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি আইনি ছাড়পত্র। জাপানে অবস্থানকালে প্রার্থীর উদ্দেশ্য বৈধ তা প্রমাণের জন্য এটি আবশ্যক।
প্রশ্ন ৪: জাপানি ভিসার সাধারণ প্রসেসিং সময়কাল কতদিন?
উত্তর: ভিএফএসে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভিসা হতে ৫ থেকে ৭ কর্মদিবস সময় লাগে। তবে অতিরিক্ত যাচাই বা সরাসরি সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হলে তা ১০ থেকে ১৫ কর্মদিবস পর্যন্ত হতে পারে।
প্রশ্ন ৫: জায়রু কার্ড (Zairyu Card) কী এবং এটি কখন পাওয়া যায়?
উত্তর: জায়রু কার্ড হলো জাপানে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে বসবাসকারী বিদেশিদের মূল স্মার্ট প্লাস্টিক পরিচয়পত্র। জাপানের নারিতা, হানেদা বা কানসাই বিমানবন্দরে নামার পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারেই এটি তাত্ক্ষণিকভাবে প্রিন্ট করে হাতে দেওয়া হয়।
প্রশ্ন ৬: স্টুডেন্ট ভিসায় জাপানে কত ঘণ্টা কাজ করার অনুমতি মেলে?
উত্তর: স্টুডেন্ট ভিসায় পার্টটাইম পারমিট (Shikakugai) থাকলে সেমিস্টার চলাকালীন সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৮ ঘণ্টা কাজ করা যায়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রীষ্মকালীন বা শীতকালীন ছুটির দিনে দৈনিক ৮ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের আইনি অনুমোদন থাকে।
উত্তর: প্রার্থীর সংশ্লিষ্ট ট্রেডে (যেমন নার্সিং কেয়ার, ফুড সার্ভিস, কৃষি ইত্যাদি) প্রম্যাট্রিক স্কিল টেস্ট পাস এবং জাপানি ভাষার ন্যূনতম JLPT N4 বা JFT-Basic পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সার্টিফিকেট থাকতে হয়।
উত্তর: স্পন্সরের ব্যাংক একাউন্টে ন্যূনতম ২৫ থেকে ৩০ লাখ বাংলাদেশি টাকা (বা ২৫-৩০ লাখ জাপানি ইয়েন) লিকুইড ব্যালেন্স এবং বিগত ৩ বছরের ট্যাক্স রিটার্ন ও বৈধ আয়ের ইতিহাস প্রদর্শন করতে হয়।
প্রশ্ন ৯: একবার জাপান ভিসা রিফিউজ হলে কতদিন পর পুনরায় আবেদন করা যায়?
উত্তর: ভিসা প্রত্যাখ্যানের তারিখ থেকে ঠিক ৬ মাস পর্যন্ত একই উদ্দেশ্যে আবেদন করা যায় না। তবে সিওই ভিত্তিক ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য তৈরি হলে ৬ মাসের পূর্বেই আবেদন দাখিল করা সম্ভব।
প্রশ্ন ১০: সিওই (COE) এর মেয়াদ কতদিন থাকে?
উত্তর: সিওই ইস্যুর তারিখ থেকে ঠিক ৩ মাস (৯০ দিন)। এই ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে ভিসা স্ট্যাম্পিং শেষ করে জাপানের মাটিতে প্রবেশ করতে হয়; অন্যথায় সিওই অকার্যকর হয়ে যায়।
প্রশ্ন ১১: ঢাকায় জাপান ভিসা আবেদন কেন্দ্র (VFS) কোথায় অবস্থিত?
প্রশ্ন ১২: অনলাইনে কি সরাসরি ভিসা অনুমোদনের ফলাফল দেখা যায়?
উত্তর: না, ভিএফএস ট্র্যাকিং পোর্টালে কেবল পাসপোর্টটি কোথায় আছে তা দেখা যায় (যেমন: প্রসেসড পাসপোর্ট রিসিভড)। ভিসা হয়েছে কি হয়নি তা সিলগালা খাম খুলে পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই কেবল নিশ্চিত হওয়া যায়।
প্রশ্ন ১৩: জাপানে পৌঁছানোর পর ওয়ার্ড অফিসে ঠিকানা লিখতে কতদিন সময় মেলে?
উত্তর: স্থায়ী বাসা বা ডরমিটরিতে ওঠার ঠিক ১৪ দিনের মধ্যে স্থানীয় সিটি ওয়ার্ড অফিসে (Kuyakusho) গিয়ে জায়রু কার্ডে ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হয়।
প্রশ্ন ১৪: দালাল ছাড়া নিজে নিজে জাপান স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করা সম্ভব?
উত্তর: অবশ্যই সম্ভব। জাপানি বিশ্ববিদ্যালয় বা ভাষা শিক্ষা স্কুলের ওয়েবসাইটে সরাসরি যোগাযোগ করে অনলাইন ইন্টারভিউ দিলে স্কুল কর্তৃপক্ষই জাপানে সিওই আবেদন সম্পন্ন করে। এরপর ভিএফএসে নিজে ফাইল জমা দেওয়া যায়।
প্রশ্ন ১৫: ল্যান্ডিং পারমিশন (Landing Permission) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: জাপানের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সীমান্ত অভিবাসন কর্মকর্তা পাসপোর্টে যে কিউআর কোডযুক্ত সিল সাঁটিয়ে দেন, তাকে ল্যান্ডিং পারমিশন বলে। এটিই জাপানে বৈধভাবে অবস্থানের মূল আনুষ্ঠানিক সূচনা।
১৬. ঢাকা কনস্যুলার ডিরেক্টরি ও জাপানি আইনি পরিভাষা গ্লোসারি
জাপানি অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত আইনি শব্দকোষ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক যোগাযোগের বিবরণ নিচে টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
জাপানি টার্ম
ইংরেজি প্রতিশব্দ
বাংলা ব্যবহারিক অর্থ ও ব্যাখ্যা
在留資格認定証明書
Certificate of Eligibility (COE)
টোকিও অভিবাসন ব্যুরো ইস্যুকৃত আইনগত অবস্থানের যোগ্যতা সনদপত্র
在留カード
Residence Card (Zairyu Card)
জাপানে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের মূল বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র
住民票
Resident Record (Juminhyo)
স্থানীয় ওয়ার্ড অফিসে স্থায়ী নাগরিক ঠিকানা নিবন্ধন নথি
資格外活動許可
Work Permission Permit (Shikakugai)
স্টুডেন্টদের জন্য সপ্তাহে ২৮ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজের আইনি অনুমতি সিল
国民健康保険
National Health Insurance (NHI)
সরকারি স্বাস্থ্যবীমা যাতে চিকিৎসার ৭০% ব্যয় রাষ্ট্র বহন করে
১৭. স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (SSW i ও SSW ii) পরীক্ষার প্রটোকল ও প্রম্যাট্রিক টেস্ট
জাপানের শ্রমবাজারে তীব্র জনশক্তি ঘাটতি পূরণের জন্য ২০১৯ সালে চালু হওয়া স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার (特定技能 - SSW) ভিসা বাংলাদেশি তরুণদের জন্য একটি সোনালী দ্বার উন্মোচন করেছে। ইন্টারনেটে প্রতিদিন হাজারো আগ্রহী প্রার্থী japan work visa check এবং japan visa status check bd লিখে অনুসন্ধান করেন। তবে এই ক্যাটাগরিতে জাপানে কাজের অনুমোদন ও সিওই (COE) পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট দুটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়:
প্রম্যাট্রিক স্কিল অ্যাসেসমেন্ট (Prometric Skills Evaluation Test): জাপানি সরকারের অনুমোদিত ১২টি শিল্পখাতে (যেমন: নার্সিং কেয়ার, খাদ্য ও পানীয় উৎপাদন, রেস্টুরেন্ট সেবা, কৃষি, নির্মাণ ও হোটেল হসপিটালিটি) কম্পিউটার ভিত্তিক (CBT) পরীক্ষা দিতে হয়। ঢাকায় প্রম্যাট্রিক টেস্ট সেন্টারে নির্ধারিত ফি প্রদান করে এই পরীক্ষা দেওয়া যায়।
জাপানি ভাষার ন্যূনতম যোগ্যতা: কর্মসংস্থানের জন্য প্রার্থীকে ন্যূনতম জাপান ফাউন্ডেশন টেস্ট (JFT-Basic) অথবা JLPT N4 স্তরের সনদধারী হতে হয়। এর ফলে প্রার্থী কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের নির্দেশ সহজে বুঝতে পারেন।
নিয়োগকারী কোম্পানির সাথে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি: পরীক্ষা পাসের পর জাপানি নিয়োগদাতা প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি জাপানের ইমিগ্রেশনে সিওই আবেদন করে। সিওই অনুমোদিত হলে প্রার্থী ভিএফএস ডেস্কে japan vfs tracking কোড সংগ্রহপূর্বক পাসপোর্ট জমা দেন।
১৮. মেক্সট স্কলারশিপ (MEXT), সাংস্কৃতিক ভিসা ও জাপান যাত্রার পূর্বপ্রস্তুতি চেকলিস্ট
জাপান সরকারের মর্যাদাপূর্ণ মেক্সট (MEXT - Ministry of Education, Culture, Sports, Science and Technology) স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষাবৃত্তি। আন্ডারগ্র্যাজুয়েট, মাস্টার্স ও পিএইচডি স্তরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনা ও উচ্চ ভাতার এই বৃত্তির জন্য দূতাবাস ট্র্যাক ও বিশ্ববিদ্যালয় সুপারিশ ট্র্যাকে ফাইল আহ্বান করা হয়। অনেক ছাত্রছাত্রী japan student visa check এবং japan visa application status পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি japan visa processing time bd হিসাব করে সময়মতো উড্ডয়নের প্রস্তুতি নেন।
জাপান যাত্রার পূর্বে প্রতিটি প্রবাসীর নিচের গুরুত্বপূর্ণ চেকলিস্টটি মিলিয়ে নেওয়া বাঞ্ছনীয়:
পাসপোর্ট ও ভিসা স্টিকার যাচাই: পাসপোর্টে সাঁটানো জাপানি ভিসা স্টিকারের নাম, পাসপোর্ট নম্বর ও ভিসা ক্যাটাগরি সতর্কভাবে মিলিয়ে নিন। কোনো ভুল থাকলে তৎক্ষণাৎ ভিএফএস কাউন্টারে বা japan embassy visa collection ডেস্কে রিপোর্ট করুন।
মূল সিওই (COE) পেপারের নিরাপত্তা: বিমানের চেক-ইন ব্যাগেজে কখনো মূল সিওই পেপার রাখবেন না। এটি সবসময় হ্যান্ড লাগেজে পাসপোর্টের সাথে রাখুন, কারণ জাপানের বিমানবন্দরে নামার সাথে সাথেই ইমিগ্রেশন ডেস্কে japan zairyu card check ও তাৎক্ষণিক রেসিডেন্স কার্ড প্রিন্টের জন্য সিওই প্রদর্শন করতে হবে।
জাপানি মুদ্রা (Yen Cash): পৌঁছানোর পর প্রথম কয়েক সপ্তাহের খাবার ও ওয়ার্ড অফিস যাতায়াতের খরচের জন্য অন্তত ৫০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ জাপানি ইয়েন ক্যাশ সঙ্গে রাখুন।
ডিজিটাল সেবা ও অ্যাপ্লিকেশন সুরক্ষা: সার্বক্ষণিক পাসপোর্ট ট্র্যাকিং ও আইনি সহায়তার জন্য স্মার্টফোনে japan visa check app ইন্সটল রাখুন এবং কীভাবে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করতে হয় তা জানতে how to check japan visa status ও japan visa check passport number গাইডলাইন অনুসরণ করুন। এছাড়া অনলাইন ইলেকট্রনিক ভিসার ক্ষেত্রে অফিশিয়াল japan evisa check online সিস্টেম এবং japan visa check website ব্যবহার করুন। অনলাইনের ভুয়া দালাল চক্র থেকে নিরাপদ থাকতে fake japan visa check সচেতনতা ও japan visa check bangladesh তথ্যভান্ডার অত্যন্ত কার্যকরী। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আপনার পাসপোর্টের সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে japan embassy dhaka visa status এবং japan visa tracking online পোর্টাল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
আ
মুহাম্মদ আরহাম চৌধুরী — অভিবাসন ও কনস্যুলার বিশ্লেষক
আন্তর্জাতিক অভিবাসন আইন, জাপান বিচার মন্ত্রণালয় (ISA) ইমিগ্রেশন ফ্রেমওয়ার্ক ও ভিএফএস ট্র্যাকিং সিস্টেম বিশেষজ্ঞ। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানি উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আইনি পথপ্রদর্শক।
১৯. Visa Check App মোবাইল ইকোসিস্টেম: জাপান ভিএফএস ও ই-ভিসা ট্র্যাকিং সহায়িকা
জাপানে উচ্চশিক্ষা, এসএসডব্লিউ (SSW) দক্ষ কর্মী, টিআইটিপি টেকনিক্যাল ইন্টার্ন এবং পর্যটন ভিসার আবেদনকারীদের সঠিক গাইডলাইন দিতে প্রস্তুত Visa Check App। জাপান দূতাবাস ঢাকা এবং ভিএফএস গ্লোবালের সঠিক অফিশিয়াল সরকারি পোর্টাল লিংক ও ধাপে ধাপে যাচাইয়ের নিয়মাবলী জানতে এই প্ল্যাটফর্ম নির্ভরযোগ্য সহায়তা প্রদান করে।
জাপান ভিসা অনুসন্ধানে এই প্ল্যাটফর্মটির প্রধান সুবিধা:
জাপানে ওয়ার্ক ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসার উচ্চ চাহিদাকে কেন্দ্র করে কিছু প্রতারক চক্র জাল সিওই (Certificate of Eligibility) তৈরি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। জাপানের অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর। ভুয়া কাগজপত্র জমা দিলে জাপান দূতাবাস অবিলম্বে আবেদনকারীকে ৫ বছরের জন্য ভিসা ব্যান করে দেয়। তাই কোনো মধ্যস্বত্বভোগীকে অর্থ প্রদানের পূর্বে ডিজিটাল সত্যতা যাচাই করা অপরিহার্য।
জাপানের আসল সিওই ও ভিসা শনাক্তকরণের ৪টি প্রধান প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:
ইলেকট্রনিক সিওই (e-COE) অফিশিয়াল ইমেইল ডোমেইন: টোকিও অভিবাসন ব্যুরো অনুমোদিত ই-সিওই সর্বদা @moj.go.jp সরকারি ইমেইল থেকে জাপানি স্পনসর বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট প্রেরিত হয়। কোনো ব্যক্তিগত জিমেইল বা ড্রাইভ লিংকের সিওই গ্রহণযোগ্য নয়।
ভিএফএস গ্লোবাল ট্র্যাকিং সত্যতা: ঢাকায় পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর ভিএফএস গ্লোবালের অফিশিয়াল পোর্টালে (visa.vfsglobal.com/bgd/en/jpn) রেফারেন্স নম্বর ও জন্মতারিখ দিলে ফাইলের সঠিক মুভমেন্ট দৃশ্যমান হতে হবে।
জাপানি স্পনসরের কর্পোরেট রেজিস্ট্রেশন: কর্মসংস্থান ভিসার ক্ষেত্রে জাপানি নিয়োগকর্তার কর্পোরেট নম্বর (Hojin Number) ন্যাশনাল ট্যাক্স এজেন্সির পোর্টালে সক্রিয় থাকতে হয়। অস্তিত্বহীন কোম্পানির নামে ইস্যুকৃত ভিসা দূতাবাস সরাসরি বাতিল করে।
পাসপোর্ট স্টিকারের হলোগ্রাফিক নিরাপত্তা: আসল জাপানি ভিসা স্টিকারে অতি সূক্ষ্ম চেরি ব্লসম (Sakura) জলছাপ এবং আলোর কোণ পরিবর্তনের সাথে রঙ পরিবর্তনশীল বিশেষ অপটিক্যাল কালি ব্যবহার করা হয়।
২১. টোকিও অবতরণের প্রথম ৭২ ঘণ্টা: নারিতা এয়ারপোর্ট ও জাইরিউ কার্ড সংগ্রহ
টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (NRT) বা হানেদা বিমানবন্দরে (HND) অবতরণের পর প্রথম তিন দিন প্রতিটি প্রবাসীর জন্য অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। জাপানের পরিষ্কার আইন ও অভিবাসন বিধিমালার নিরাপদ সেটেলমেন্টের জন্য নিচের ৩টি প্রধান পদক্ষেপ গ্রহণ করুন:
নারিতা এয়ারপোর্টে রেসিডেন্স কার্ড (Zairyu Card) গ্রহণ: ইমিগ্রেশন ডেস্কে মূল পাসপোর্ট ও সিওই জমা দিন। মিড-টু-লং টার্ম ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন বুথ থেকেই তাৎক্ষণিকভাবে প্লাস্টিক রেসিডেন্স কার্ড বা 'জাইরিউ কার্ড' প্রিন্ট করে হস্তান্তর করা হয়। এটি জাপানে আপনার প্রধানতম আইনি সনদ।
সুইকা (Suica) বা পাসমো (Pasmo) কার্ড ও স্থানীয় সিম: এয়ারপোর্ট টার্মিনাল থেকে ট্রেন স্টেশনের ভেন্ডিং মেশিন থেকে একটি ওয়েলকাম সুইকা বা পাসমো আইসি কার্ড সংগ্রহ করুন। জাপানের ট্রেন, সাবওয়ে ও কনভেনিয়েন্স স্টোরে পেমেন্টের জন্য এটি অপরিহার্য। এছাড়া ডোকোমো (Docomo) বা সফটব্যাংক কিওস্ক থেকে স্থানীয় ডাটা সিম কিনে নিন।
সিটি অফিসে (Kuyakusho) ঠিকানা ও জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা নিবন্ধন: জাপানে বাসা ঠিক করার ১৪ দিনের মধ্যে স্থানীয় ওয়ার্ড বা সিটি অফিসে গিয়ে জাইরিউ কার্ডের পেছনে স্থায়ী ঠিকানা প্রিন্ট করাতে হয়। একই সাথে জাপানি জাতীয় স্বাস্থ্যবীমা (NHI) ও পেনশন সিস্টেমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।
২২. টোকিও বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাপানে প্রবাসীদের আইনি ও আর্থিক নিরাপত্তা
টোকিওর মেগুরোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জাপানে অবস্থানরত প্রবাসী কর্মী, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের যেকোনো জরুরি আইনি ও কনস্যুলার সেবা প্রদানে নিবেদিত। জাপানি শ্রম মানদণ্ড আইন এবং অভিবাসন ব্যুরোর সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে দূতাবাস কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করে।
জাপান প্রবাসীদের জন্য সরকারি আর্থিক ও কল্যাণমূলক সুবিধাগুলোর রূপরেখা:
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড (WEWB) সুরক্ষা: বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে জাপানে কর্মরত সকল এসএসডব্লিউ ও কারিগরি ইন্টার্ন সরকারি কল্যাণ বোর্ডের সদস্য সুবিধা পান। প্রবাসে কোনো কর্মী দুর্ঘটনার শিকার হলে আর্থিক অনুদান ও দেশে ফেরার পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
প্রবাসী হটলাইন ১৬১৩৫ ও টোকিও দূতাবাস হেল্পলাইন: জাপানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা কোম্পানির দ্বারা প্রতারিত হলে প্রবাসীরা সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের কল সেন্টার +880 9610 102030 অথবা 16135 নম্বরে যোগাযোগ করে সরকারি তদন্ত নিশ্চিত করতে পারেন।
বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ইয়েন রেমিট্যান্সে ২.৫% প্রণোদনা: জাপানি ইয়েন বৈধ ব্যাংকিং বা অনুমোদিত রেমিট্যান্স চ্যানেলে বাংলাদেশে পাঠালে সরকার প্রতি ১০০ টাকায় সরাসরি ২.৫০ টাকা নগদ প্রণোদনা প্রদান করে। এছাড়া সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরকদের রাষ্ট্রীয় সিআইপি (CIP) মর্যাদা প্রদান করা হয়।
২৩. জাপানে সামাজিক শিষ্টাচার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ট্রেন যাতায়াত বিধি
জাপানি সমাজে শৃঙ্খলা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পরিচ্ছন্নতা হলো জীবনের মূল চালিকাশক্তি। জাপানে নতুন প্রবাসী হিসেবে সফলভাবে বসবাসের জন্য দেশটির সামাজিক রীতি ও নাগরিক নীতিমালা সম্পর্কে পরিষ্কার জ্ঞান রাখা অত্যন্ত সহায়ক।
জাপানে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ৩টি প্রধান সামাজিক প্রটোকল:
ট্রেনে ফোনে কথা না বলার শিষ্টাচার (Manner Mode): জাপানের সাবওয়ে বা ট্রেনে উচ্চস্বরে কথা বলা বা ফোনে কল রিসিভ করা তীব্রভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়। মোবাইল সবসময় সাইলেন্ট মোডে রাখতে হয় এবং জরুরি হলে টেক্সট মেসেজ ব্যবহার করা হয়।
জাপানি আবর্জনা পৃথকীকরণ (Gomi Separation): জাপানে বাসাবাড়ির ময়লা দাহ্য (Burnable), অদাহ্য (Non-burnable), পেট বোতল ও ক্যান হিসেবে সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাগে ফেলতে হয়। সঠিক নিয়ম না মানলে বাড়িওয়ালা চুক্তি বাতিল করতে পারে।
সময়ানুবর্তিতা ও কাজের নিষ্ঠা (Punctuality): জাপানি কর্মসংস্কৃতিতে সময়ানুবর্তিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ। কর্মস্থলে বা মিটিংয়ে নির্ধারিত সময়ের অন্তত ১০ মিনিট পূর্বে পৌঁছানো অলিখিত বাধ্যতামূলক নিয়ম হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পূর্বে অন্তত ৫০,০০০ মার্কিন ডলার কভারেজযুক্ত একটি আন্তর্জাতিক ট্রাভেল হেলথ ইনস্যুরেন্স পলিসি সংগ্রহ করা অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। আকস্মিক দুর্ঘটনা, হাসপাতালে ভর্তি কিংবা ফ্লাইট বাতিলের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে এই আন্তর্জাতিক পলিসি সম্পূর্ণ আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসা ব্যয়ের দুশ্চিন্তা থেকে পরিবারকে মুক্ত রাখে।
তাছাড়া ভ্রমণের সময় মূল পাসপোর্ট ও ভিসার রঙিন ফটোকপি পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্যের কাছে সংরক্ষণ করে রাখা উচিত, যা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো দুর্যোগে দ্রুততম সময়ে সরকারি কনস্যুলার সেবা পেতে বিশেষ কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আঞ্চলিক ভিসা নেটওয়ার্কভেরিফাইড গাইড
সম্পর্কিত অন্যান্য দেশের ভিসা চেক ও নিয়মাবলী
একই অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের অফিশিয়াল সরকারি পোর্টালে আসল ভিসা যাচাইয়ের সরাসরি গাইডলাইন