উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা (KWD) ও সুদৃঢ় অর্থনীতির দেশ কুয়েত কয়েক দশক ধরে লাখ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। নির্মাণ খাত, তেল ও জ্বালানি শিল্প, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যক্তিগত সেবা শিল্পে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অত্যন্ত সুনামের সাথে শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। কুয়েতের ১ দিনার বাংলাদেশি টাকায় চার শতাধিক টাকার সমান হওয়ায় সাধারণ কর্মীদের মাঝে দেশটির কাজের ভিসার প্রতি প্রবল আকর্ষণ রয়েছে। তবে এই প্রবল চাহিদাকে পুঁজি করে অসৎ দালাল চক্র ও অবৈধ এজেন্সিগুলো ভুয়া ভিসা পেপার এবং অস্তিত্বহীন কোম্পানির নামে ভুয়া কাজের ছাড়পত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতারণা রুখতে কুয়েত সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOI) এবং সিভিল ইনফরমেশন অথরিটির (PACI) সেবাগুলোকে কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একীভূত করেছে। এখন প্রতিটি ভিসা ইস্যু হওয়ার সাথে সাথেই তা সরকারি ক্লাউড সার্ভারে লাইভ ভেরিফাই করা যায়।
আপনি যদি কুয়েতের কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের ভিসা পেয়ে থাকেন কিংবা কোনো আত্মীয় বা এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার চুক্তিপত্র হাতে পেয়ে থাকেন, তবে বিমানে ওঠার পূর্বে ভিসাটি সরকারি সার্ভারে সক্রিয় আছে কিনা তা নিশ্চিত করা আপনার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন দেশের ভিসা যাচাইয়ের সাধারণ প্রযুক্তিগত ধাপসমূহ জানতে আমাদের অনলাইনে ভিসা চেক করার সঠিক নিয়মাবলী গাইডটি অধ্যয়ন করতে পারেন। এছাড়া কুয়েতের কেন্দ্রীয় অভিবাসন কাঠামোর সামগ্রিক রূপরেখা পেতে আমাদের কুয়েত ভিসা চেক নির্দেশিকা মূল পেজটি ঘুরে আসতে পারেন।
১. কুয়েত কাজের ভিসার আইনগত কাঠামো (আর্টিকেল ১৮ বনাম আর্টিকেল ২০)
কুয়েতের রেসিডেন্সি আইন অনুযায়ী বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট আর্টিকেলের আওতায় পরিচালিত হয়। কোন ভিসায় আপনি যাচ্ছেন তা না জানলে পরবর্তীতে বড় ধরনের আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সর্বাধিক প্রচলিত দুটি কাজের ভিসা ক্যাটাগরি:
১. আর্টিকেল ১৮ (প্রাইভেট সেক্টর ওয়ার্ক ভিসা - الشؤون / إقامة عمل): এটি বেসরকারি বাণিজ্যিক কোম্পানি, কারখানা, হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য ইস্যু করা হয়। এই ভিসার ক্ষেত্রে কুয়েত সরকারের পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার (PAM) থেকে কাজের অনুমতিপত্র (Work Permit / Izn Amal) অনুমোদন নিতে হয়। এই ভিসার কর্মীরা নির্দিষ্ট সময় পর নিয়ম মেনে কোম্পানি পরিবর্তনের অধিকার পান। ২. আর্টিকেল ২০ (ডোমেস্টিক ওয়ার্কার বা খাদেম ভিসা - عمالة منزلية): এটি কোনো কুয়েতি নাগরিকের গৃহস্থালি কাজের জন্য (যেমন গৃহকর্মী, বাবুর্চি, ব্যক্তিগত ড্রাইভার, মালি) ইস্যু করা হয়। এই ভিসায় কোম্পানি পরিবর্তনের কোনো সুযোগ থাকে না এবং কর্মী সম্পূর্ণভাবে তার কুয়েতি কফিলের অধীনে থাকেন।
২. পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে এমওআই পোর্টালে কাজের ভিসা চেক করার নিয়ম
দালালদের বিভ্রান্তিকর কথা এড়িয়ে সরাসরি কুয়েত সরকারের লাইভ ডাটাবেজে অনুসন্ধানের জন্য আমাদের কুয়েত ভিসা চেক টুল ব্যবহারকারীদের জন্য একটি দ্রুত ও কার্যকর গেটওয়ে সুবিধা প্রদান করে।
ধাপে ধাপে অনলাইন ভেরিফিকেশন পদ্ধতি:
- ধাপ ১: ভিসা চেক অ্যাপ ওপেন করে দেশ তালিকায় কুয়েত (Kuwait) নির্বাচন করুন এবং কাজের ভিসা ও ইকামা চেক অপশনে ট্যাপ করুন।
- ধাপ ২: আপনার পাসপোর্ট নম্বর ও ভিসা আবেদন নম্বর লিখুন। কপি করা তথ্য এক ট্যাপে বসাতে
📋 পেস্টবাটনের সাহায্য নিন। - ধাপ ৩: নিচে প্রদর্শিত
🌐 সরকারি পোর্টালে সরাসরি চেক করুনবাটনে প্রেস করে সরাসরি কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (MOI) অফিশিয়াল সিস্টেমে চলে যান। - ধাপ ৪: সরকারি স্ক্রিনে ‘Electronic Services’ থেকে ‘General Department of Residency’ মেন্যুতে গিয়ে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর টাইপ করুন এবং ক্যাপচা পূরণ করে ‘Inquire’ বাটনে চাপুন।
ভ্রমণ ও দর্শনার্থী ভিসা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে আমাদের কুয়েত ভিজিট ভিসা ও পর্যটক এন্ট্রি পারমিট যাচাই গাইডটি দেখে নিতে পারেন।
৩. কুয়েত ভিসা রেজাল্ট স্ট্যাটাস ও বাংলা চেকলিস্ট সহায়িকা
সরকারি পোর্টালে সার্চ সম্পন্ন করার পর স্ক্রিনে আপনার ভিসা ফাইলের বর্তমান অবস্থা ফুটে উঠবে। ইংরেজি ও আরবি পারিভাষিক শব্দের সঠিক তাৎপর্য বুঝতে নিচের তালিকাটি অনুসরণ করুন:
প্রধান স্ট্যাটাসসমূহ ও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ:
১. Approved / Valid (অনুমোদিত ও সক্রিয়): ভিসাটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে এবং কুয়েতে প্রবেশের জন্য সম্পূর্ণ বৈধ। স্ক্রিনে স্পন্সর কোম্পানির নাম, প্রার্থীর নাম, পদের নাম এবং কুয়েতে প্রবেশের শেষ তারিখ দেখতে পাবেন। ২. Under Processing (প্রক্রিয়াধীন): কোম্পানি জনশক্তি মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দিয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ও কোটা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। ৩. Expired (মেয়াদোত্তীর্ণ): ভিসা ইস্যু হওয়ার পর নির্ধারিত ৯০ দিনের ট্রাভেল উইন্ডোর মধ্যে কুয়েত বিমানবন্দরে প্রবেশ না করায় ভিসাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অচল হয়ে গেছে। ৪. Rejected / Cancelled (বাতিল বা প্রত্যাখ্যাত): কোম্পানির লাইসেন্স সমস্যা, ভুয়া ডকুমেন্টস বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র না পাওয়ায় আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে।
পরিবার স্পন্সরশিপ ও ফ্যামিলি রেসিডেন্সি ট্র্যাকিংয়ের নিয়ম জানতে আমাদের কুয়েত ফ্যামিলি রেসিডেন্সি ভিসা আবেদন ও স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং প্রতিবেদনটি পড়ুন।
৪. পিএসিআই (PACI) সিভিল আইডি কার্ড ও ডিজিটাল সাহেল অ্যাপ
কুয়েতে প্রবেশের পর প্রতিটি প্রবাসীকে পাবলিক অথরিটি ফর সিভিল ইনফরমেশন (PACI) থেকে ১২ ডিজিটের ইউনিক পরিচিতি সম্বলিত স্মার্ট সিভিল আইডি কার্ড গ্রহণ করতে হয়।
সিভিল আইডি নম্বরের ১২টি ডিজিটের গাণিতিক রহস্য:
- ১ম ডিজিট: শতাব্দী কোড (১৯৯৯ সাল পর্যন্ত জন্ম হলে
২, ২০০০ সাল থেকে পরবর্তীতে জন্ম হলে৩)। - পরবর্তী ৬ ডিজিট: প্রার্থীর জন্মসাল, মাস ও দিন (YYMMDD ফরম্যাটে; যেমন ১৯৮৫ সালের ১৫ মার্চ হলে
৮৫১৫০৩)। - শেষ ৫ ডিজিট: পিএসিআই ডাটাবেজ কর্তৃক স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরাদ্দকৃত ইউনিক সিরিয়াল নম্বর।
- সাহেল (Sahel) অ্যাপের ব্যবহার: কুয়েত সরকার সকল কাগুজে নথির বদলে এখন ইউনিফাইড সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে ডিজিটাল সিভিল আইডি কার্ড প্রদর্শনকে আইনগতভাবে বৈধ করেছে।
৫. কুয়েত কাজের ভিসা প্রসেসিং ও ওয়াফিদ (Wafid / GAMCA) মেডিকেল প্রটোকল
কুয়েতের কাজের ভিসা চূড়ান্তকরণের জন্য বাংলাদেশে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিরাপত্তা ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হয়:
প্রসেসিংয়ের ৫টি অপরিহার্য ধাপ:
- ১ম ধাপ: কুয়েত থেকে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু: নিয়োগকারী কোম্পানি কুয়েতের শ্রম মন্ত্রণালয় (PAM) থেকে প্রার্থীর নামে প্রাথমিক ওয়ার্ক পারমিট বা ‘ইজন আমল’ সংগ্রহ করে।
- ২য় ধাপ: ওয়াফিদ (GAMCA) মেডিকেল টেস্ট: বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেটে গামকা অনুমোদিত সেন্টারে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রে সম্পন্ন করা। রিপোর্ট অনলাইনে
wafid.com-এ ‘FIT’ হতে হবে। - ৩য় ধাপ: পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: প্রার্থীর নিজ থানার আওতাধীন এসপি অফিস থেকে নো ক্রিমিনাল রেকর্ড সম্বলিত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে হবে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কুয়েত দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে।
- ৪র্থ ধাপ: ঢাকায় কুয়েত এম্বাসি ভিসা স্ট্যাম্পিং: দূতাবাসের অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে পাসপোর্টে মূল এন্ট্রি ভিসা স্ট্যাম্পিং করা হয়।
- ৫ম ধাপ: বিএমইটি ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র: বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি ব্যুরো থেকে স্মার্ট কার্ড নিয়ে বিমানে ওঠার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।
৬. ওভারস্টে জরিমানা, ট্রাভেল ব্যান ও কুয়েত শ্রম অধিকার ২০২৬
কুয়েতের রেসিডেন্সি আইন অত্যন্ত কঠোর এবং কোনো অবৈধ অবস্থানকারীকে ছাড় দেওয়া হয় না:
আইনগত নিয়ম ও জরিমানার রূপরেখা:
- দৈনিক ২ দিনার জরিমানা: ইকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের জন্য প্রতিদিন ২ কুয়েতি দিনার (KWD) হারে সরকারি জরিমানা আরোপিত হয়।
- আউটপাস ও সাধারণ ক্ষমা (Amnesty): অবৈধ হয়ে পড়লে জরিমানা পরিশোধ না করে দেশে ফেরা যায় না। তবে সরকার মাঝে মাঝে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলে জরিমানা ছাড়া দেশে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়।
- শ্রম বিরোধ ও অভিযোগ দায়ের: কোম্পানি বেতন আটকে রাখলে বা পাসপোর্ট না দিলে প্রবাসীরা জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের (PAM) লেবার রিলেশন ডিপার্টমেন্টে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন।
ভিসা পেপারের কারিগরি সত্যতা ও জাল কাগজের নিরাপত্তা উপাদান যাচাই করতে আমাদের আসল ও ভুয়া বা জাল ভিসা চেনার সার্বিক উপায় বিশ্লেষণটি দেখতে পারেন।
৭. কুয়েত শ্রম আইন ও প্রাইভেট সেক্টর কর্মীদের গ্র্যাচুইটি হিসাব ২০২৬
কুয়েত বেসরকারি খাতের শ্রম আইন (Law No. 6 of 2010 ও সংশ্লিষ্ট সংশোধনী) বিদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে:
সার্ভিস বেনিফিট বা গ্র্যাচুইটি (End-of-Service Indemnity) গণনা:
- প্রথম ৫ বছরের চাকরির জন্য: প্রতি পূর্ণ বছরের সন্তোষজনক চাকরির বিপরীতে কর্মীকে ১৫ দিনের শেষ প্রাপ্ত মূল বেতন হারে গ্র্যাচুইটি প্রদান করতে হয়।
- ৫ বছরের পরবর্তী চাকরির জন্য: পঞ্চম বছরের পরবর্তী প্রতি অতিরিক্ত বছরের চাকরির জন্য পূর্ণ ১ মাসের (৩০ দিনের) মূল বেতন হারে গ্র্যাচুইটি যুক্ত হয়। তবে সামগ্রিক চাকরির গ্র্যাচুইটি সর্বোচ্চ দেড় বছরের বেতনের বেশি হবে না।
- কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম অধিকার: সাধারণ কর্মঘণ্টা দৈনিক ৮ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা। রমজান মাসে কর্মঘণ্টা কমে ৩৬ ঘণ্টা হয়। স্বাভাবিক সময়ের বাইরে কাজ করালে স্বাভাবিক পারিশ্রমিকের অতিরিক্ত ২৫% এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করালে ৫০% অতিরিক্ত ওভারটাইম ভাতা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
- বাৎসরিক ছুটি ও এয়ার টিকিট: প্রথম ৯ মাস সফলভাবে সম্পন্ন করার পর কর্মী বাৎসরিক ৩০ দিনের পেইড লিভ এবং কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী দেশে যাওয়ার রিটার্ন বিমান টিকিট পাওয়ার অধিকারী হন।
৮. কুয়েতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির সরকারি শর্তাবলী ও পেশা কোড
কুয়েতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে বিদেশি কর্মীদের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া নিয়মাবলী রয়েছে:
লাইসেন্স আবেদনের ৩টি মৌলিক শর্ত:
১. ন্যূনতম মাসিক বেতন: প্রার্থীর সিভিল আইডি কার্ড ও ওয়ার্ক পারমিটে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৬০০ কুয়েতি দিনার (KWD) রেকর্ডভুক্ত থাকতে হবে। ২. শিক্ষাগত যোগ্যতা: সরকার অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় হতে ন্যূনতম ৪ বছর মেয়াদী স্নাতক বা ডিগ্রি সনদপত্র থাকতে হবে। ৩. কুয়েতে অবস্থানের সময়কাল: দেশটিতে বৈধ রেসিডেন্স কার্ড নিয়ে একটানা কমপক্ষে ২ বছর অতিবাহিত হতে হবে। তবে ডাক্তার, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিচারকদের ক্ষেত্রে এই শর্ত শিথিলযোগ্য।
৯. কুয়েতে পাসপোর্ট নিজের কাছে রাখার আইন ও আইনি সুরক্ষা
কুয়েত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড অনুযায়ী প্রবাসী কর্মীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বলবৎ রয়েছে:
পাসপোর্ট হেফাজত ও আইনি অধিকার:
- পাসপোর্ট জব্দ করা বেআইনি: কুয়েতের মন্ত্রিপরিষদের সার্কুলার (Ministerial Decision No. 166/2007) অনুযায়ী কোনো কোম্পানি বা নিয়োগকর্তা কর্মীর মূল পাসপোর্ট জোরপূর্বক আটকে রাখতে পারে না। পাসপোর্ট কর্মীর একান্ত ব্যক্তিগত আন্তর্জাতিক সরকারি দলিল।
- পাসপোর্ট উদ্ধার ও অভিযোগ: যদি কোনো নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান পাসপোর্ট ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে কর্মী জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের (PAM) সংশ্লিষ্ট লেবার কোর্টে গিয়ে পাসপোর্ট উদ্ধারে জরুরি সহায়তা প্রার্থনা করতে পারেন।
- দূতাবাস কনস্যুলার সেবা: পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা কফিল আটকে রাখলে কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ট্রাভেল পাস (Outpass) বা নতুন ই-পাসপোর্ট ইস্যু করা সম্ভব।
১০. কুয়েত বিমানবন্দরে অবতরণ ও পাসপোর্ট কন্ট্রোল চেকলিস্ট
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (KWI) নেমেই জাওয়াজাত (Jawazat) পাসপোর্ট কন্ট্রোল ডেস্কে প্রবাসীকে কিছু সুনির্দিষ্ট নথি প্রদর্শন করতে হয়:
বিমানবন্দরে প্রদর্শনের আবশ্যিক চেকলিস্ট:
- মূল ভিসা পেপার (Original Visa Copy): কুয়েত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক ইস্যুকৃত মূল ভিসা পেপার।
- পাসপোর্ট ও বিএমইটি কার্ড: ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদী মূল পাসপোর্ট এবং বিএমইটি স্মার্ট কার্ড।
- সত্যায়িত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কুয়েত দূতাবাস সত্যায়িত পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের মূল কপি।
- গামকা মেডিকেল ফিটনেস স্লিপ: অনুমোদিত সেন্টারের ফিট সার্টিফিকেট ও অনলাইন বারকোড স্লিপ।
১৩. বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. কুয়েত কাজের ভিসা চেক করতে কী কী তথ্য প্রয়োজন হয়?
ভিসা যাচাইয়ের জন্য প্রার্থীর পাসপোর্ট নম্বর, ভিসা আবেদন নম্বর (Visa Application Number) অথবা স্পন্সর কোম্পানির সিভিল আইডি নম্বর প্রয়োজন হয়।
২. কুয়েত সিভিল আইডি (Civil ID) কার্ডের ১২ ডিজিটের বিন্যাস কী?
প্রথম সংখ্যা শতাব্দীর কোড (২ বা ৩), পরবর্তী ৬ সংখ্যা জন্মতারিখ (YYMMDD), এবং শেষ ৫ সংখ্যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রদত্ত ইউনিক পরিচিতি নম্বর।
৩. কুয়েত কাজের ভিসার প্রধান ক্যাটাগরিগুলো কী কী?
বেসরকারি কোম্পানির জন্য আর্টিকেল ১৮ (Private Sector Work Visa) এবং গৃহকর্মী বা ডোমেস্টিক কর্মীদের জন্য আর্টিকেল ২০ (Domestic Worker Visa) সর্বাধিক প্রচলিত।
৪. কুয়েত ইকামার মেয়াদ শেষ হলে দৈনিক জরিমানা কত?
ইকামা নবায়ন না করে অতিরিক্ত অবস্থানের জন্য কুয়েত ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী প্রতিদিন ২ কুয়েতি দিনার (KWD) হারে সরকারি জরিমানা কার্যকর হয়।
৫. ওয়াকিদ বা গামকা (Wafid / GAMCA) মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট কীভাবে চেক করে?
wafid.com পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর ও জাতীয়তা প্রদান করে মেডিকেল ফিটনেস স্লিপ ও বারকোড যাচাই করা যায়।
৬. ভুয়া কুয়েত কাজের ভিসা চেনার নিশ্চিত কৌশল কী?
আসল ভিসার নিরাপত্তা কিউআর কোড স্ক্যান করলে সরাসরি moi.gov.kw সরকারি ডোমেইনে রেজাল্ট আসবে। কোনো সাধারণ ওয়েবসাইট বা টেক্সট ফাইল দেখালে তা ভুয়া।
৭. কুয়েতে কোম্পানি পরিবর্তনের (Tanazul) নিয়ম কী?
আর্টিকেল ১৮ প্রাইভেট সেক্টর ভিসায় কর্মরত প্রবাসীরা সরকারি চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট নোটিশ পিরিয়ড প্রদান করে বর্তমান স্পন্সরের অনুমতি সাপেক্ষে নতুন কোম্পানিতে ভিসা ট্রান্সফার করতে পারেন।
৮. কুয়েতে বেতন পরিশোধের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে?
কুয়েত সরকারের জনশক্তি মন্ত্রণালয় (PAM) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে কর্মীদের বেতন সরাসরি নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে জমা করতে হয়; নগদ বেতন দেওয়া নিষিদ্ধ।