সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে শীর্ষ বিনিয়োগকারী, অনন্য প্রতিভাবান পেশাজীবী, বিজ্ঞানী এবং উদ্যোক্তাদের আকৃষ্ট করতে দীর্ঘমেয়াদী স্ব-স্পন্সরড রেসিডেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে। এর মধ্যে সর্বাধিক আলোচিত হলো ১০ বছর মেয়াদি গোল্ডেন ভিসা (Golden Visa) এবং ৫ বছর মেয়াদি গ্রিন ভিসা (Green Visa)। পূর্বে যেখানে যেকোনো কাজের বা বসবাসের জন্য স্থানীয় নিয়োগকর্তা বা স্পন্সরের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল থাকতে হতো, সেখানে গোল্ডেন ও গ্রিন ভিসা প্রবাসীদের শতভাগ স্বাধীনভাবে বসবাসের অভূতপূর্ব স্বাধীনতা প্রদান করেছে। তবে এই মর্যাদাপূর্ণ ভিসার জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা বিত্তবান ব্যক্তিদের ভুয়া গোল্ডেন এপ্রুভাল লেটার পাঠিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আপনি যদি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্সির জন্য আবেদন করে থাকেন কিংবা যোগ্যতার ভিত্তিতে নমিনেশন ট্র্যাকিং করতে চান, তবে সরকারের অফিশিয়াল সিস্টেমের মাধ্যমেই সরাসরি ফাইলের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সাধারণ আন্তর্জাতিক ভিসা তল্লাশির নিয়মাবলী বিস্তারিত জানতে আমাদের অনলাইনে ভিসা চেক করার সঠিক নিয়মাবলী গাইডটি পড়ে নিতে পারেন। এছাড়া ইউএই ইমিগ্রেশনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে আমাদের ইউএই ভিসা চেক নির্দেশিকা মূল পেজটি ঘুরে আসতে পারেন।
১. ইউএই গোল্ডেন ভিসা ও গ্রিন ভিসার মৌলিক কাঠামো ও যোগ্যতা
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের রেসিডেন্সি নীতিমালায় গোল্ডেন ভিসা এবং গ্রিন ভিসা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ক্যাটাগরির দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা প্রদান করে।
গোল্ডেন ভিসার (১০ বছর মেয়াদি) প্রধান ক্যাটাগরি ও যোগ্যতার মাপকাঠি:
১. রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী (Real Estate Investors): ইউএই ভূখণ্ডে ন্যূনতম ২০ লাখ দিরহাম (AED 2 Million) মূল্যের এক বা একাধিক স্থাবর সম্পত্তির মালিক হতে হবে। সম্পত্তিটি অনুমোদিত স্থানীয় ব্যাংক থেকে মর্টগেজে নেওয়া হলেও নির্ধারিত ইকুইটি থাকলে এই সুবিধা পাওয়া যায়। ২. উচ্চ দক্ষ পেশাজীবী (Skilled Professionals): মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্কিল লেভেল ১ বা ২ ভুক্ত পেশায় নিয়োজিত, স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং যাদের মাসিক মূল বেতন ন্যূনতম ৩০,০০০ দিরহাম। ৩. অনন্য প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব ও বিজ্ঞানী (Exceptional Talents & Scientists): সংস্কৃতি, কলা, সাহিত্য, ক্রীড়া, অথবা উদ্ভাবনী গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যাদের এমিরেটস সায়েন্টিস্ট কাউন্সিল বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সুপারিশ প্রদান করা হয়। ৪. সফল উদ্যোক্তা (Entrepreneurs): কোনো অনুমোদিত স্টার্টআপ বা ব্যবসায়িক প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা, যার প্রকল্প মূল্যায়ন ন্যূনতম ৫ লাখ দিরহাম কিংবা যা সরকার স্বীকৃত বিজনেস ইনকিউবেটর দ্বারা প্রত্যয়িত।
গ্রিন ভিসার (৫ বছর মেয়াদি) প্রধান ক্যাটাগরি:
- ফ্রিল্যান্সার ও স্বনির্ভর পেশাজীবী: মোহরে অনুমোদিত ফ্রিল্যান্স পারমিটধারী ব্যক্তি, যাদের পূর্ববর্তী দুই বছরের বার্ষিক আয় ন্যূনতম ৩ লাখ ৬০ হাজার দিরহাম অথবা সমমানের আর্থিক স্বচ্ছলতা রয়েছে।
- দক্ষ চাকুরিজীবী (Skilled Employees): তৃতীয় স্কিল লেভেল পর্যন্ত পেশাজীবী, যাদের স্নাতক ডিগ্রিসহ ন্যূনতম মাসিক বেতন ১৫,০০০ দিরহাম।
২. ভিসা চেক অ্যাপের মাধ্যমে গোল্ডেন ও গ্রিন ভিসা ট্র্যাকিং পদ্ধতি
দীর্ঘমেয়াদী ভিসা আবেদনের পর নমিনেশনের প্রতিটি ধাপের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে আমাদের ইউএই ভিসা চেক টুল আইসিপি সার্ভারের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে।
অনলাইনে পর্যায়ক্রমিক ট্র্যাকিং নির্দেশিকা:
- ধাপ ১: ভিসা চেক অ্যাপ চালু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সিলেক্ট করুন এবং ইউএই গোল্ডেন ও গ্রিন ভিসা ট্র্যাকিং অপশনে যান।
- ধাপ ২: আপনার পাসপোর্ট নম্বর ও জন্মতারিখ প্রদান করুন অথবা আবেদনের সময় প্রাপ্ত আবেদন নম্বর (Request Number / PRAN) লিখুন।
- ধাপ ৩: নিচে প্রদর্শিত
🌐 সরকারি পোর্টালে সরাসরি চেক করুনবাটনে প্রেস করে আইসিপির ডেডিকেটেড গোল্ডেন সার্ভিসেস উইন্ডোতে যান। - ধাপ ৪: ভাসমান
⚡ কুইক-পেস্টবাটন দিয়ে এক ট্যাপে নম্বর ইনপুট দিন এবং সার্চ সম্পন্ন করে লাইভ স্ট্যাটাস দেখুন।
ইউএই সাধারণ কর্মসংস্থান ও শ্রমিকদের রেসিডেন্স পারমিট সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেখতে আমাদের দুবাই কাজের ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট যাচাই গাইডটি অনুসরণ করুন।
৩. ইউনিফাইড নম্বর (UID) এবং অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকিং স্ট্যাটাস বিশ্লেষণ
সরকারি ডাটাবেজে আপনার গোল্ডেন ভিসা ফাইলের অনুসন্ধানের পর বিভিন্ন ফলাফল দেখতে পারেন। এই স্ট্যাটাসগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
ট্র্যাকিং স্ট্যাটাসের সুনির্দিষ্ট বাংলা অর্থ:
১. Application Under Review (পর্যালোচনাধীন): সংশ্লিষ্ট সরকারি কমিটি আপনার যোগ্যতা, ডিগ্রি ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট যাচাই করছে। সাধারণত নমিনেশনের জন্য ৩ থেকে ৭ কর্মদিবস সময় লাগে। ২. Nomination Approved (নমিনেশন অনুমোদিত): প্রাথমিক যোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে। এখন পরবর্তী ধাপ হিসেবে মেডিকেল ফিটনেস এবং ডিজিটাল এন্ট্রি পারমিট ইস্যুর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ৩. Ready for Issuance (ইস্যুর জন্য প্রস্তুত): সকল সরকারি ফি পরিশোধ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সফল হয়েছে। সিস্টেমে ১০ বছর বা ৫ বছরের ডিজিটাল রেসিডেন্স পারমিট জেনারেট হচ্ছে। ৪. Modification Required (সংশোধন প্রয়োজন): কোনো নথিপত্র অস্পষ্ট থাকলে বা অতিরিক্ত প্রমাণপত্র প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট দিনের সময়সীমা দিয়ে ফাইল রিটার্ন করা হয়।
৪. গোল্ডেন, গ্রিন এবং সাধারণ ভিসার তুলনামূলক সুবিধা চার্ট
নিচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিন ধরণের প্রধান রেসিডেন্সির তুলনামূলক বৈশিষ্ট্যসমূহ তুলে ধরা হলো:
| সুবিধার ক্ষেত্র | ১০ বছর মেয়াদি গোল্ডেন ভিসা | ৫ বছর মেয়াদি গ্রিন ভিসা | সাধারণ ২ বছর মেয়াদি কাজের ভিসা |
|---|---|---|---|
| স্থানীয় স্পন্সরের আবশ্যকতা | কোনো স্পন্সর লাগে না (১০০% স্ব-স্পন্সরড) | কোনো স্পন্সর লাগে না | স্থানীয় নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি আবশ্যক |
| ভিসার কার্যকর মেয়াদ | ১০ বছর (স্বয়ংক্রিয় নবায়নযোগ্য) | ৫ বছর (স্বয়ংক্রিয় নবায়নযোগ্য) | ২ বছর (কোম্পানির ইচ্ছাধীন) |
| বিদেশে অবস্থানের সময়সীমা | ৬ মাসের নিয়ম প্রযোজ্য নয় (যেকোনো সময় বাইরে থাকা যায়) | সর্বোচ্চ ৬ মাস একটানা বাইরে থাকা যায় | সর্বোচ্চ ৬ মাস একটানা বাইরে থাকা যায় |
| পরিবার স্পন্সরশিপ সুবিধা | স্বামী/স্ত্রী, যে কোনো বয়সের সন্তান ও গৃহকর্মী | স্বামী/স্ত্রী এবং ২৫ বছর পর্যন্ত পুত্রসন্তান | নির্দিষ্ট বেতনের শর্তে পরিবার আনা যায় |
| ভিসা বাতিলের পর গ্রেস পিরিয়ড | ৬ মাস (১৮০ দিন) | ৬ মাস (১৮০ দিন) | ৩০ থেকে ৬০ দিন |
| দুবাই স্মার্ট গেটস এক্সেস | ভিআইপি অগ্রাধিকার ভিত্তিক এক্সেস | সাধারণ স্মার্ট গেটস এক্সেস | সাধারণ স্মার্ট গেটস এক্সেস |
দুবাইয়ের সাধারণ ভ্রমণ সংক্রান্ত নিয়মাবলী বিস্তারিতভাবে জানতে আমাদের দুবাই ট্যুরিস্ট ভিসা চেক গাইড প্রতিবেদনটি পড়ুন।
৫. দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্মার্ট গেটস ক্লিয়ারেন্স সুবিধা
গোল্ডেন ভিসা ও গ্রিন ভিসাধারীরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক ও প্রিমিয়াম ইমিগ্রেশন সুবিধা উপভোগ করেন।
বিমানবন্দর ক্লিয়ারেন্সের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
- পেপারলেস ইমিগ্রেশন: পাসপোর্টে কোনো কাগুজে ভিসা স্টিকার লাগে না; শুধুমাত্র ডিজিটাল এমিরেটস আইডি বা পাসপোর্ট স্ক্যান করেই স্মার্ট গেট পার হওয়া যায়।
- নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ স্বাধীনতা: গোল্ডেন ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে একটানা ছয় মাসের বেশি ইউএই-এর বাইরে অবস্থান করলেও রেসিডেন্সি বাতিল হয় না, যা ঘনঘন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল আশীর্বাদ।
- পরিবারের সদস্যদের জন্য দ্রুত বহির্গমন: স্পন্সরকৃত পরিবারের সকল সদস্যও একই ধরণের অগ্রাধিকারমূলক ইমিগ্রেশন সুবিধা লাভ করেন।
৬. গোল্ডেন ও গ্রিন ভিসাধারীদের জন্য ট্যাক্স সুবিধা ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রিভিলেজ
ইউএই গোল্ডেন ভিসা এবং গ্রিন ভিসা কেবল দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের পারমিট নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক মানের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং স্বাধীনতার প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। এই মর্যাদাপূর্ণ রেসিডেন্সি অর্জনের মাধ্যমে প্রবাসীরা বহুমুখী সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন:
আর্থিক ও বাণিজ্যিক সুবিধার প্রধান দিকগুলো:
- শূন্য শতাংশ ব্যক্তিগত আয়কর (0% Income Tax): সংযুক্ত আরব আমিরাতে উপার্জিত কোনো ব্যক্তিগত আয়ের ওপর সরকার কোনো আয়কর বা ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ধার্য করে না। ফলে প্রবাসীরা তাদের উপার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ করমুক্তভাবে সংরক্ষণ বা স্থানান্তর করতে পারেন।
- আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সুবিধা: গোল্ডেন ভিসাধারীরা কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই আমিরাতের প্রথম সারির ব্যাংকগুলোতে (যেমন Emirates NBD, First Abu Dhabi Bank - FAB, ADCB) মাল্টি-কারেন্সি কর্পোরেট ও ব্যক্তিগত প্রিমিয়ার ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করতে পারেন।
- গৃহকর্মী ও ড্রাইভার স্পন্সরশিপ: সাধারণ ভিসায় গৃহকর্মী রাখা কঠিন হলেও গোল্ডেন ভিসাধারীরা কোনো সরকারি ডিপোজিট ও সীমাবদ্ধতা ছাড়াই আনলিমিটেড গৃহকর্মী, বাবুর্চি ও ব্যক্তিগত গাড়িচালক স্পন্সর করতে পারেন।
- দুবাই এসাদ ডিসকাউন্ট প্রিভিলেজ কার্ড: দুবাই সরকার নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ এসাআদ কার্ড বিনামূল্যে ইস্যু করে। এই বিশেষ কার্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বিশ্বের শতাধিক দেশে নামীদামী পাঁচ তারকা হোটেল, বিমান টিকিট, বিশ্বমানের হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অটোমোবাইল ব্র্যান্ডে আকর্ষণীয় ছাড় ও এক্সক্লুসিভ অফার উপভোগ করা যায়।
- ড্রাইভিং লাইসেন্স রূপান্তর ও রিয়েল এস্টেট সুবিধা: গোল্ডেন ভিসাধারীরা দ্রুততম সময়ে কোনো ট্রায়াল ছাড়াই আন্তর্জাতিক ড্রাইভ লাইসেন্স রূপান্তর করতে পারেন এবং বাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংক থেকে আকর্ষণীয় সুদে সর্বোচ্চ ৮০% পর্যন্ত লোন (LTV Ratio) লাভ করেন।
৭. গোল্ডেন ভিসার নমিনেশন বাতিলের কারণ ও পুনর্বিবেচনার আবেদন পদ্ধতি
অনেক সময় যথাযথ তথ্য ও প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংযুক্ত না করার কারণে আইসিপি যাচাই কমিটি প্রাথমিক আবেদন বাতিল করতে পারে। তবে রিজেকশন মানেই প্রক্রিয়া শেষ নয়:
নমিনেশন রিজেক্ট হওয়ার সাধারণ কারণসমূহ:
১. বেতনের অসঙ্গতি: উচ্চ দক্ষ পেশাজীবী ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীদের মূল বেতন ৩০,০০০ দিরহামের নিচে থাকলে কিংবা ব্যাংক স্টেটমেন্টে বেতনের নিয়মিত এন্ট্রি না থাকলে আবেদন বাতিল হয়। ২. অননুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি: শিক্ষাগত সনদপত্র ইউএই শিক্ষা মন্ত্রণালয় (MoE) দ্বারা ইকুইভ্যালেন্সি বা সমমান সনদ দ্বারা প্রত্যয়িত না হলে কমিটি ফাইল নাকচ করতে পারে। ৩. রিয়েল এস্টেট মূল্যায়নে ঘাটতি: সম্পত্তির সরকারি মূল্যায়নে ২০ লাখ দিরহামের শর্ত পূরণ না হলে প্রপার্টি ক্যাটাগরির আবেদন গৃহীত হয় না। ৪. আপিল ও পুনর্বিবেচনা: আইসিপি সিস্টেমে কোনো আবেদন বাতিল হলে উপযুক্ত প্রমাণ ও সংশোধিত কাগজপত্রসহ ‘Reconsideration Request’ জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়।
৮. গোল্ডেন ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধ ও ভুয়া এজেন্সি সনাক্তকরণ
মর্যাদাপূর্ণ এই ভিসার জন্য আবেদনকারীদের টার্গেট করে অনলাইনে নিত্যনতুন প্রতারণার কৌশল তৈরি হচ্ছে। সুরক্ষিত থাকার জন্য সর্বদা মূল সরকারি সিস্টেমে নির্ভর করতে হবে। কোনো জাল দলিলের সংকেত মেলাতে আমাদের আসল ও ভুয়া বা জাল ভিসা চেনার সার্বিক উপায় বিশ্লেষণটি সতর্কভাবে পড়ুন।
গোল্ডেন ভিসা প্রতারণা এড়ানোর ৫টি গোল্ডেন রুলস:
১. গ্যারান্টিযুক্ত এপ্রুভালের ফাঁদে পা দেবেন না: কোনো বেসরকারি এজেন্সি সরকারিভাবে ১০০% এপ্রুভালের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে সরকারি যাচাই কমিটির এখতিয়ারাধীন।
২. অফিসিয়াল ই-মেইল যাচাই: সকল যোগাযোগ শুধুমাত্র @icp.gov.ae অথবা @gdrfad.gov.ae ডোমেইন থেকে প্রেরিত হবে। ব্যক্তিগত জিমেইল বা আউটলুক থেকে আসা তথাকথিত এপ্রুভাল সম্পূর্ণ ভুয়া।
৩. ব্যক্তিগত ব্যাংক একাউন্টে ফি প্রদান করবেন না: সরকারি ফি শুধুমাত্র অফিশিয়াল পোর্টালে ক্রেডিট কার্ড বা ই-দিরহাম চ্যানেলে জমা দিতে হয়।
৪. ডিজিটাল ট্র্যাকিং ভেরিফিকেশন: আবেদনের পরপরই প্রার্থীর নিজস্ব মোবাইলে সরকারের রেফারেন্স কোড সম্বলিত এসএমএস চলে আসে।
৫. পেশাগত সনদপত্রের সঠিকতা: জাল ডিগ্রি বা ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট ব্যবহার করলে আজীবনের জন্য ইউএইতে প্রবেশ নিষিদ্ধ (Permanent Ban) হতে পারে।
৯. বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. ইউএই গোল্ডেন ভিসার মূল সুবিধাগুলো কী কী?
গোল্ডেন ভিসায় কোনো স্থানীয় স্পন্সর ছাড়াই ১০ বছর বসবাস, স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা, যেকোনো বয়সের সন্তান স্পন্সর করা এবং একটানা ৬ মাসের বেশি বিদেশে থাকলেও ভিসা সক্রিয় থাকার সুবিধা পাওয়া যায়।
২. ইউএই গ্রিন ভিসা (Green Visa) কারা পেতে পারেন?
উচ্চ দক্ষ পেশাজীবী, বৈধ ফ্রিল্যান্সার এবং বাণিজ্যিক অংশীদাররা কোনো কোম্পানির স্পন্সরশিপ ছাড়াই ৫ বছর মেয়াদের জন্য গ্রিন ভিসা পেতে পারেন।
৩. গোল্ডেন ভিসা ট্র্যাক করতে কোন নম্বর প্রয়োজন হয়?
আবেদনের সময় প্রাপ্ত অ্যাপ্লিকেশন নম্বর (PRAN / Request Number), পাসপোর্ট নম্বর অথবা পূর্বে তৈরি হওয়া ৯ ডিজিটের ইউনিফাইড নম্বর (UID) দিয়ে অনুসন্ধান করা যায়।
৪. রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগের মাধ্যমে গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার শর্ত কী?
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ন্যূনতম ২০ লাখ দিরহাম (AED 2 Million) মূল্যের প্রপার্টি থাকতে হবে, যা শর্তসাপেক্ষে ব্যাংকে বন্ধক রেখে কেনা হলেও কার্যকর বিবেচিত হতে পারে।
৫. গোল্ডেন ভিসা আবেদনের জন্য নমিনেশন কীভাবে পাওয়া যায়?
ফেডারেল আইসিপি পোর্টাল অথবা দুবাই জিডিআরএফএ পোর্টালে অনলাইনে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও প্রপার্টি পেপার আপলোড করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নমিনেশন আবেদন জমা দেওয়া যায়।
৬. ভুয়া গোল্ডেন ভিসা অফার থেকে বাঁচার উপায় কী?
গোল্ডেন ভিসার অনুমোদন শুধুমাত্র আইসিপি ও জিডিআরএফএ অফিশিয়াল ই-মেইল এবং সিস্টেমে আসে। কোনো বেসরকারি এজেন্সির গ্যারান্টিযুক্ত কথায় বিশ্বাস না করে সরাসরি সরকারি ট্র্যাকিং নম্বরে অনুসন্ধান করতে হবে।
৭. গোল্ডেন ভিসা পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা কি কাজ করতে পারেন?
হ্যাঁ, গোল্ডেন ভিসার অন্যতম বড় সুবিধা হলো স্পন্সরকৃত স্ত্রী বা স্বামী এবং প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা তাদের নিজস্ব রেসিডেন্সির ভিত্তিতেই ইউএইর যেকোনো বৈধ কোম্পানিতে চাকরি করতে পারেন কিংবা নিজের নামে নতুন ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন।
৮. গ্রিন ভিসার ৫ বছর মেয়াদ শেষ হলে কি নবায়ন করা যায়?
অবশ্যই। গ্রিন ভিসার নির্ধারিত ৫ বছর মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পর যদি প্রার্থীর পেশাগত চুক্তি, ফ্রিল্যান্স অনুমোদন অথবা বাৎসরিক আয়ের নির্ধারিত শর্ত বহাল থাকে, তবে আইসিপি বা জিডিআরএফএ পোর্টালে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে একই শর্তে পুনরায় ৫ বছরের জন্য ভিসা নবায়ন করা যায়।