সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের অন্যতম গতিশীল ও আধুনিক শ্রমবাজার, যেখানে লক্ষাধিক বাংলাদেশি দক্ষ, আধা-দক্ষ ও পেশাজীবী কর্মী সুনামের সাথে নিয়োজিত আছেন। নির্মাণ শিল্প, হসপিটালিটি, আধুনিক লজিস্টিকস, ড্রাইভিং, রিটেইল এবং হাই-টেক সেবা খাতে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা থাকায় প্রতিদিন শত শত প্রবাসী কাজের ভিসা নিয়ে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহসহ বিভিন্ন আমিরাতে গমন করছেন। তবে এই বিপুল আগ্রহের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু দালাল ও অবৈধ সিন্ডিকেট ভুয়া কোম্পানির নামে তৈরি করা বানোয়াট অফার লেটার ও আকর্ষণীয় বেতনের লোভ দেখিয়ে নিরীহ যুবকদের সর্বস্বান্ত করছে। প্রতারণা এড়াতে ইউএই সরকার দেশটির সম্পূর্ণ শ্রমবাজার ও ইমিগ্রেশনকে অটোমেটেড ক্লাউড আর্কিটেকচারে নিয়ে এসেছে। এখন কোনো কর্মীর কাজের ভিসা ইস্যু হওয়ার সাথে সাথেই তা মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (MOHRE) এবং ইমিগ্রেশন সার্ভারে উন্মুক্ত হয়ে যায়।
আপনি যদি দুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরির অফার লেটার পেয়ে থাকেন কিংবা কাজের ভিসা হাতে পান, তবে আর্থিক লেনদেন বা বিমানে ওঠার পূর্বে সরকারি সার্ভারে তা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা অপরিহার্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা যাচাই পদ্ধতির সাধারণ নিয়মাবলী সহজে জেনে নিতে আমাদের অনলাইনে ভিসা চেক করার সঠিক নিয়মাবলী গাইডটি পড়তে পারেন। এছাড়া সার্বিক ইউএই অভিবাসন ও আইনি কাঠামোর বিস্তারিত জানতে আমাদের ইউএই ভিসা চেক নির্দেশিকা মূল পেজটি ভিজিট করতে পারেন।
১. এমওএইচআরই (MOHRE) ডিজিটাল লেবার কন্ট্রাক্ট ও অফার লেটার অডিট
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেসরকারি খাতের প্রতিটি কর্মসংস্থান তদারকি করে মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয় (Ministry of Human Resources and Emiratisation - MOHRE)। সরকারি শ্রম আইন (Federal Decree-Law No. 33 of 2021) অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি বিদেশে অবস্থানরত কর্মীর নামে কাজের ভিসা ইস্যু করার পূর্বে অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ডিজিটাল ‘এমপ্লয়মেন্ট অফার লেটার’ ইস্যু করতে বাধ্য।
মোহরে অনুমোদিত চুক্তিপত্রে যেসব সরকারি তথ্য সংরক্ষিত থাকে:
১. জব কোড ও অনুমোদিত পেশা: ইউএই ন্যাশনাল অকুপেশনাল ক্লাসিফিকেশন অনুসারে নির্ধারিত পেশা (Job Designation) এবং স্কিল লেভেল (Level 1 থেকে 5)। ২. বেতনের পূর্ণাঙ্গ বিভাজন: বেসিক স্যালারি (Basic Salary), বাসা ভাড়া ভাতা (Housing Allowance), যাতায়াত ভাতা (Transport Allowance) এবং ওভারটাইমের শর্ত সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। ৩. চুক্তির সময়কাল ও নবায়ন: বর্তমান শ্রম আইন অনুযায়ী সকল চুক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদী (Fixed-term Contract), যার সর্বোচ্চ মেয়াদ সাধারণত ২ বছর এবং উভয় পক্ষের সম্মতিতে নবায়নযোগ্য। ৪. কোম্পানির লাইসেন্স ও কোটা স্ট্যাটাস: সংশ্লিষ্ট কোম্পানির মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত কোটা এবং ট্রেড লাইসেন্স বৈধ রয়েছে কিনা তা মোহরে যাচাই করে।
২. ভিসা চেক অ্যাপের সাহায্যে কাজের ভিসা ও আইসিপি রেসিডেন্স পারমিট ট্র্যাকিং
সাধারণ কর্মীদের প্রযুক্তিগত জটিলতা লাঘবে এবং দালালদের ভুয়ো ফাঁদ থেকে রক্ষা করতে আমাদের ইউএই ভিসা চেক টুল মোহরে এবং ফেডারেল আইসিপি ডাটাবেজের সাথে সরাসরি কানেক্টিভিটি প্রদান করে।
ধাপে ধাপে কাজের ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট অনুসন্ধানের নিয়ম:
- ধাপ ১: ভিসা চেক অ্যাপ ওপেন করে দেশ তালিকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত বেছে নিন এবং কাজের ভিসা ও রেসিডেন্স পারমিট অপশনে ক্লিক করুন।
- ধাপ ২: আপনার পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ এবং অফার লেটার রেফারেন্স নম্বর লিখুন। কপি করা তথ্য বসাতে
📋 পেস্টফিচারটি ব্যবহার করুন। - ধাপ ৩: নিচে থাকা উজ্জ্বল
🌐 সরকারি পোর্টালে সরাসরি চেক করুনবাটনে প্রেস করে সরাসরি অফিসিয়াল সিস্টেমে প্রবেশ করুন। - ধাপ ৪: সরকারি আইসিপি বা জিডিআরএফএ পেজে গিয়ে ‘File Validity’ অপশনে পাসপোর্ট দিয়ে সার্চ করুন অথবা মোহরে পোর্টালে লেবার অ্যাপ্লিকেশন নম্বর বসিয়ে ‘Search’ চাপুন।
ভ্রমণ বা দর্শনার্থী ভিসার বিস্তারিত কারিগরি যাচাইকরণ নিয়মাবলী জানতে আমাদের দুবাই ট্যুরিস্ট ভিসা চেক গাইড প্রতিবেদনটি দেখে নিতে পারেন।
৩. ইউএই কাজের ভিসা প্রসেসিংয়ের ৭টি সুনির্দিষ্ট পর্যায়
একটি পূর্ণাঙ্গ ইউএই কাজের ভিসা প্রক্রিয়াকরণে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর সম্পৃক্ত থাকে। এই ধাপগুলো অবগত থাকলে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না:
| ধাপ নম্বর | প্রক্রিয়ার নাম | সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তর | আনুমানিক সময় | গুরুত্ব ও তাৎপর্য |
|---|---|---|---|---|
| ১ম ধাপ | কোটা ও প্রাক-অনুমোদন | MOHRE | ২ - ৪ দিন | কোম্পানির কর্মী নিয়োগের কোটা ও লাইসেন্স বৈধতা যাচাই |
| ২য় ধাপ | ডিজিটাল অফার লেটার স্বাক্ষর | কর্মী ও নিয়োগকর্তা | ১ - ৩ দিন | কর্মীর সম্মতি ও ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরকারি সিস্টেমে নিবদ্ধন |
| ৩য় ধাপ | ইলেকট্রনিক ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন | MOHRE | ৩ - ৫ দিন | কর্মীর নামে প্রাথমিক কর্মসংস্থান ছাড়পত্র নিশ্চিতকরণ |
| ৪র্থ ধাপ | এমপ্লয়মেন্ট এন্ট্রি পারমিট (ই-ভিসা) | GDRFA / ICP | ২ - ৪ দিন | দেশে ভ্রমণের জন্য ৬০ দিনের উইন্ডো সম্বলিত অফিশিয়াল ভিসা পেপার |
| ৫ম ধাপ | দেশে আগমন ও স্ট্যাটাস চেঞ্জ | ইউএই ইমিগ্রেশন | ১ - ২ দিন | এন্ট্রি পারমিটের মাধ্যমে আগমন অথবা ইন-কান্ট্রি স্ট্যাটাস চেঞ্জ |
| ৬ষ্ঠ ধাপ | মেডিকেল ফিটনেস ও বায়োমেট্রিক | DHA / SEHA / EHS | ৩ - ৫ দিন | রক্ত পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে এবং এমিরেটস আইডির আঙুলের ছাপ প্রদান |
| ৭ম ধাপ | ফাইনাল রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু | ICP / GDRFA | ২ - ৩ দিন | পাসপোর্টে ডিজিটাল ভিসা সিঙ্ক ও ডিজিটাল এমিরেটস আইডি সক্রিয়করণ |
৪. ইউএই মেডিকেল ফিটনেস টেস্ট ও মোফা এডাস সত্যায়ন প্রটোকল
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছানোর পর কাজের ভিসা চূড়ান্ত করতে প্রতিটি প্রবাসীকে সরকারি প্রিভেন্টিভ হেলথ সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার মূল দিকসমূহ:
- সংক্রামক রোগ স্ক্রিনিং: এইচআইভি (HIV), হেপাটাইটিস-বি (নির্দিষ্ট পেশায়) এবং ফুসফুসের যক্ষ্মা (Tuberculosis - TB) পরীক্ষা করা হয়। ফুসফুসে যক্ষ্মার পুরাতন দাগ থাকলে অতিরিক্ত পরীক্ষা সাপেক্ষে চিকিৎসা গ্রহণের শর্ত দেওয়া হতে পারে।
- স্বয়ংক্রিয় ক্লাউড সিঙ্ক: স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার ফলাফল সরাসরি আইসিপির ইমিগ্রেশন সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয়, ফলে কোনো কাগজের রিপোর্ট বহন করতে হয় না।
- মোফা এডাস (eDAS) সত্যায়ন: ম্যানেজারিয়াল, ইঞ্জিনিয়ারিং, নার্সিং বা অ্যাকাউন্টিং পেশার কর্মীদের শিক্ষাগত সনদপত্র ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম (eDAS) দিয়ে ডিজিটাল সত্যায়ন থাকা বাধ্যতামূলক।
৫. বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ও প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের ছাড়পত্র
বাংলাদেশ সরকারের অভিবাসন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন অনুযায়ী, বৈধ কাজের ভিসা নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশে যাওয়ার পূর্বে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) থেকে ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স ও স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।
বিএমইটি কার্ডের বহুমুখী সুরক্ষা সুবিধাসমূহ:
- প্রবাসী কল্যাণ ইনস্যুরেন্স: বিদেশগমনের সময় জীবন ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিপরীতে সরকারি বীমা কভারেজ নিশ্চিত হয়।
- বিমানবন্দরে আইনগত ছাড়পত্র: শাহজালাল বা ওসমানী বিমানবন্দরে বিএমইটি বারকোড স্ক্যান ছাড়া কোনো কর্মীকে ইমিগ্রেশন পারাপার করতে দেওয়া হয় না।
- আইনি ও কনস্যুলার সহায়তা: বিএমইটি নিবন্ধিত কর্মীরা বিদেশে কোনো আইনি বা শ্রম বিরোধে জড়ালে বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সরাসরি আইনি সহায়তা প্রদান করে।
ভিসা পেপারের কারিগরি সত্যতা ও জাল কাগজের নিরাপত্তা উপাদান যাচাই করতে আমাদের আসল ও ভুয়া বা জাল ভিসা চেনার সার্বিক উপায় বিশ্লেষণটি দেখতে পারেন।
৬. ইউএই শ্রম আইন ও ওয়েজ প্রটেকশন সিস্টেম (WPS) আওতায় অধিকার ও সুরক্ষা
সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের শ্রম আইন (Federal Decree-Law No. 33 of 2021) প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত সুদৃঢ় নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। প্রতিটি কর্মীর জানা প্রয়োজন যে তাদের জন্য কী কী আইনি সুরক্ষা বলবৎ রয়েছে:
কর্মীর প্রধান আইনি অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা:
- পাসপোর্ট নিজের জিম্মায় রাখার অধিকার: ইউএই শ্রম আইন অনুযায়ী কোনো নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি কর্মীর পাসপোর্ট জোরপূর্বক জমা রাখতে পারে না। পাসপোর্ট আটকে রাখা একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর দায়ে কোম্পানির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ২০,০০০ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
- সার্ভিস বেনিফিট বা গ্র্যাচুইটি (End-of-Service Gratuity): পূর্ণ এক বছর সন্তোষজনক চাকরি সম্পন্ন করার পর কর্মী গ্র্যাচুইটি পাওয়ার অধিকারী হন। প্রথম ৫ বছরের চাকরির জন্য প্রতি বছর ২১ দিনের বেসিক বেতন এবং পরবর্তী প্রতি অতিরিক্ত বছরের জন্য ৩০ দিনের বেসিক বেতন হারে গ্র্যাচুইটি গণনা করা হয়।
- কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম হিসাব: সাধারণ কর্মঘণ্টা দিনে ৮ ঘণ্টা বা সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা। রমজান মাসে কর্মঘণ্টা ২ ঘণ্টা হ্রাস পায়। স্বাভাবিক কর্মঘণ্টার বাইরে কাজ করালে কর্মীকে সাধারণ বেতনের অতিরিক্ত ২৫% এবং রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করালে ৫০% বাড়তি ওভারটাইম ভাতা প্রদান আইনত বাধ্যতামূলক।
- বাৎসরিক পেইড লিভ ও এয়ার টিকিট: একটানা এক বছর কাজ করার পর কর্মী ৩০ দিনের বাৎসরিক বেতনসহ ছুটি এবং চুক্তি অনুযায়ী দেশে যাতায়াতের রিটার্ন এয়ার টিকিট পাওয়ার অধিকারী।
- বেকারত্ব বীমা বা আইলো স্কিম: ২০২৩ সাল থেকে ইউএই সরকার সকল সরকারি ও বেসরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য বাধ্যতামূলক ইনভলান্টারি লস অব এমপ্লয়মেন্ট বীমা চালু করেছে। নামমাত্র প্রিমিয়ামে (ক্যাটাগরি ভেদে প্রতি মাসে ৫ থেকে ১০ দিরহাম) এই স্কিমে যুক্ত থাকলে অপ্রত্যাশিতভাবে চাকরি হারালে টানা ৩ মাস পর্যন্ত বেসিক বেতনের ৬০% হারে আর্থিক ক্ষতিপূরণ লাভ করা যায়।
- লেবার কোর্ট সহায়তা: যদি নিয়োগকর্তা চুক্তি অনুযায়ী বেতন পরিশোধ না করে, তবে কর্মী টোল-ফ্রি নম্বর
80084-এ কল করে সরাসরি মোহরে শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন অথবা ‘Tawjeeh’ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে বিনামূল্যে পরামর্শ নিতে পারেন।
৭. কাজের ভিসা বাতিলের পর গ্রেস পিরিয়ড ও নতুন চাকরি খোঁজার নিয়ম
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কোনো কারণে চাকরি ছেড়ে দিলে বা কোম্পানি ভিসা বাতিল (Cancellation) করলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ ছাড়তে হয় না। সরকার কর্মীদের নতুন কাজের সন্ধানের জন্য পর্যাপ্ত সময় প্রদান করে থাকে:
ক্যাটাগরি অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডের মেয়াদ:
১. উচ্চ দক্ষ পেশাজীবী (Skill Level 1, 2 & 3): ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, ম্যানেজার ও স্নাতক ডিগ্রিধারী কর্মীদের জন্য ভিসা বাতিলের পর একটানা ১৮০ দিন (৬ মাস) পর্যন্ত দেশটিতে বৈধভাবে থাকার সুযোগ রয়েছে। ২. আধা-দক্ষ ও টেকনিক্যাল কর্মী (Skill Level 4 & 5): সাধারণ কর্মী ও টেকনিশিয়ানদের ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের পর সাধারণত ৩০ থেকে ৯০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড প্রদান করা হয়। ৩. ইন-কান্ট্রি স্ট্যাটাস চেঞ্জ সুবিধা: গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান জব অফার লেটার দিলে কর্মী দেশ ত্যাগ না করেই নতুন কোম্পানিতে ভিসা ট্রান্সফার বা স্ট্যাটাস চেঞ্জ সম্পন্ন করতে পারেন।
স্ব-স্পন্সরড দীর্ঘমেয়াদী বসবাস ও ফ্রিল্যান্সার ভিসা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পেতে আমাদের ইউএই গোল্ডেন ভিসা ও গ্রিন ভিসা ট্র্যাকিং বিশ্লেষণটি পড়ুন।
৮. বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. ইউএই কাজের ভিসা চেক করতে কোন কোন তথ্য প্রয়োজন হয়?
কাজের ভিসা অনুসন্ধান করতে মূলত প্রার্থীর পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ এবং মোহরে জব অফার নম্বর (যা সাধারণত ST বা MB কোড দিয়ে শুরু হয়) প্রয়োজন হয়।
২. এমওএইচআরই (MOHRE) অফার লেটার ছাড়া কি কাজের ভিসা বৈধ?
কখনোই না। ইউএই ফেডারেল শ্রম আইন অনুযায়ী মোহরে অনুমোদিত ডিজিটাল অফার লেটার ছাড়া কোনো কোম্পানির কাজের ভিসা ইস্যু করার আইনগত ক্ষমতা নেই।
৩. ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজের ভিসা রূপান্তর করতে কতদিন সময় লাগে?
কোম্পানি সঠিক সময়ে ফি জমা দিলে এবং মেডিকেল ও বায়োমেট্রিক দ্রুত সম্পন্ন হলে সাধারণ অবস্থায় ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রেসিডেন্স পারমিট সক্রিয় হয়ে যায়।
৪. ইউএই রেসিডেন্স ভিসায় প্রবাসীরা একটানা কতদিন দেশের বাইরে থাকতে পারেন?
সাধারণ দুই বছর মেয়াদী রেসিডেন্স ভিসাধারীরা একটানা সর্বোচ্চ ১৮০ দিন (৬ মাস) ইউএই-এর বাইরে অবস্থান করতে পারেন। এর বেশি বাইরে থাকলে ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
৫. ভুয়া দুবাই কাজের অফার লেটার চেনার উপায় কী?
যদি অফার লেটারে কোনো ডিজিটাল কিউআর কোড না থাকে, সরকারি বারকোড অনুপস্থিত থাকে এবং যোগাযোগের জন্য ফ্রি জিমেইল বা ইয়াহু অ্যাড্রেস দেওয়া থাকে, তবে সেটি নির্দ্বিধায় ভুয়া।
৬. ইউএই কাজের ভিসার জন্য বিএমইটি স্মার্ট কার্ড কেন আবশ্যক?
বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী বিএমইটি ছাড়পত্র ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া যায় না। এটি প্রবাসীর জীবন বীমা ও আইনি সুরক্ষার প্রতীক।
৭. ইউএই কাজের ভিসার খরচ কি কর্মীকে বহন করতে হয়?
সংযুক্ত আরব আমিরাত শ্রম আইনের সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী, নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি কর্মীর কাজের ভিসা, এন্ট্রি পারমিট, মেডিকেল ফিটনেস পরীক্ষা, এমিরেটস আইডি এবং লেবার কার্ড প্রসেসিংয়ের যাবতীয় সরকারি ও প্রশাসনিক খরচ সম্পূর্ণ বহন করতে আইনত বাধ্য। কোনো এজেন্সি বা কোম্পানি কর্মীর বেতন থেকে এই খরচ কেটে রাখলে তা গুরুতর শ্রম আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
৮. কর্মসংস্থান হারানোর সুরক্ষায় ইউএই আইলো স্কিম কী?
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রবাসীদের সামাজিক সুরক্ষা প্রদানে ইনভলান্টারি লস অব এমপ্লয়মেন্ট স্কিম চালু রয়েছে। এটি মূলত একটি সরকারি নিরাপত্তা তহবিল, যা আকস্মিক চাকরিচ্যুতি বা কোম্পানি বন্ধের শিকার হওয়া কর্মীদের পরবর্তী কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত ৩ মাস মেয়াদে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে সহায়তা করে।