সৌদি আরবে কর্মরত লক্ষাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির একটি আজন্ম লালিত স্বপ্ন থাকে তাদের মা, বাবা, স্ত্রী বা সন্তানদের পবিত্র মক্কা ও মদিনার সান্নিধ্যে নিয়ে আসা এবং প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মাঝে পরিবারের সদস্যদের সাথে কিছু আনন্দঘন সময় কাটানো। সৌদি আরবের আধুনিকায়নের যুগে প্রবাসীদের জন্য পরিবার নিয়ে আসার নিয়মাবলী অনেকটাই সহজ ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MOFA) তাদের সেন্ট্রাল ডিজিটাল ভিসা গেটওয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা আবেদন এবং এপ্রুভাল ট্র্যাক করার ব্যবস্থা রেখেছে। তবে আবেদন করার পর চেম্বার অব কমার্স সত্যায়ন (তাদিক), মোফা এপ্রুভাল এবং ঢাকার ভিসা সেন্টারে ফাইল প্রসেসিং সংক্রান্ত সঠিক ধাপগুলো না জানার কারণে অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েন।
আপনি যদি সৌদি আরবে আপনার পরিবারের সদস্যদের ভিজিট ভিসা এনে একসাথে ওমরাহ ও ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তবে অনলাইনেই ভিসা স্ট্যাটাস লাইভ ট্র্যাক করার নিয়মাবলী জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বের যেকোনো দেশের সরকারি ডাটাবেজে ভিসা অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত নিয়ম জানতে আমাদের অনলাইনে ভিসা চেক করার সঠিক নিয়মাবলী গাইডটি অনুসরণ করতে পারেন। এছাড়া সৌদি আরবের যাবতীয় ভিসা প্রটোকলের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে আমাদের সৌদি আরব ভিসা চেক নির্দেশিকা মূল হাব পেজটি ঘুরে আসতে পারেন।
১. ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা ও মোফা ডিজিটাল আবেদনের মৌলিক ধারণা
সৌদি আরবের ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা মূলত দেশটির বৈধ ইকামা কার্ডধারী প্রবাসীদের প্রথম সারির আত্মীয়-স্বজন—যেমন পিতা, মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের সাময়িকভাবে সৌদি আরবে এনে রাখার অনুমতি দেয়।
ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার প্রধান দুটি ক্যাটাগরি:
১. সিঙ্গেল এন্ট্রি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা: এই ভিসায় প্রাথমিক অনুমোদনের মেয়াদ থাকে ৯০ দিন এবং সৌদি আরবে প্রবেশের পর প্রথম দফায় ৩০ দিন অবস্থানের অনুমতি পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ‘Absher’ বা ‘Muqeem’ পোর্টালের মাধ্যমে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন (৬ মাস) পর্যন্ত অবস্থান বাড়ানো সম্ভব। ২. মাল্টিপল এন্ট্রি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা: এই ভিসার মেয়াদ থাকে ৩৬৫ দিন (১ বছর)। প্রবাসীর পরিবার এক বছরে যতবার খুশি সৌদি আরবে আসা-যাওয়া করতে পারে। তবে শর্ত হলো, প্রতি দফায় প্রবেশের পর সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে একবার সৌদি সীমান্ত বা এয়ারপোর্ট অতিক্রম করে পুনরায় প্রবেশ (Exit & Re-entry) করতে হয়।
পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য যারা স্বল্পকালীন সময়ে ভ্রমণ করতে চান, তারা স্বাধীনভাবে ট্যুরিস্ট ও ওমরাহ ভিসার ট্র্যাকিং পদ্ধতি জানতে আমাদের সৌদি ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসা চেক গাইড দেখে নিতে পারেন।
২. মোফা পোর্টালে অ্যাপ্লিকেশন নম্বর দিয়ে লাইভ এপ্রুভাল ট্র্যাকিং
আবেদনকারী সৌদি প্রবাসী যখন কেএসএ ভিসা প্ল্যাটফর্মে ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার জন্য ফর্ম পূরণ করেন, তখন সিস্টেম থেকে একটি ৯ ডিজিটের আবেদন নম্বর (Application Number) তৈরি হয়। এই নম্বরটি দিয়েই মোফা পোর্টালে অগ্রগতি ট্র্যাক করতে হয়।
ধাপে ধাপে মোফা এপ্রুভাল অনুসন্ধানের নিয়ম:
- ধাপ ১: আমাদের বিশেষায়িত ভিসা চেক অ্যাপ চালু করুন অথবা ব্রাউজারে
visa.mofa.gov.saপোর্টালে প্রবেশ করুন। - ধাপ ২: Inquiry বক্সে Search For ড্রপডাউন থেকে ‘Application Submitted to MOFA’ অথবা ‘Family Visit Visa Application’ সিলেক্ট করুন।
- ধাপ ৩: প্রথম বক্সে প্রবাসীর তৈরি হওয়া আবেদন নম্বর (Application ID) লিখুন।
- ধাপ ৪: দ্বিতীয় বক্সে আবেদনকারী প্রবাসীর সৌদি আবাসিক পরিচয়পত্র বা ইকামা নম্বর (Iqama Number) দিন।
- ধাপ ৫: স্ক্রিনে প্রদর্শিত ৪ সংখ্যার ইমেজ কোড (Captcha) টাইপ করে ‘Inquire’ বাটনে চাপুন।
সার্চ করার পর যদি স্ক্রিনে কোনো অনুমোদনের তথ্য দৃশ্যমান না হয়, তবে বুঝতে হবে আবেদনটি এখনো সরকারিভাবে গৃহীত হয়নি।
৩. চেম্বার অব কমার্স (তাদিক) সত্যায়ন ও কাফিল অনুমোদন প্রক্রিয়া
মোফা পোর্টালে আবেদন দাখিল করার পরই কিন্তু ভিসা ইস্যু হয় না। এটি হলো প্রথম ধাপ। দ্বিতীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ‘তাদিক’ (Tasaadiq) বা স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স থেকে সত্যায়ন সম্পন্ন করা।
তাদিক প্রক্রিয়া যেভাবে সম্পন্ন হয়:
১. কোম্পানির অনুমোদন: প্রবাসী যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাদের এইচআর ডিপার্টমেন্ট বা কাফিলকে সৌদি কমার্শিয়াল চেম্বার (Chamber of Commerce)-এর পোর্টালে লগইন করতে হয়। ২. চেম্বার ফি পরিশোধ: কাফিল অনলাইনে নির্ধারিত সরকারি চেম্বার ফি (সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ রিয়াল) পরিশোধ করে আবেদনটি ই-সাইন (Electronic Signature) করেন। ৩. মোফা সার্ভারে সিঙ্ক: চেম্বার সত্যায়ন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে মোফা পোর্টালে স্ট্যাটাস পরিবর্তিত হয়ে ‘Certified by Chamber of Commerce’ দেখায়। ৪. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত রিভিউ: চেম্বার অনুমোদনের পর মোফার কর্মকর্তারা প্রবাসীর বেতন, পদবী ও পেশা যাচাই করে চূড়ান্ত ভিসা ডকুমেন্ট (Visa Document No) মঞ্জুর করেন।
ঢাকায় ভিএফএস তাসহিল (VFS Tasheel) সেন্টারে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেকলিস্ট:
ভিসা ডকুমেন্ট ইস্যু হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের ঢাকায় অবস্থিত সৌদি ভিসা সার্ভিস সেন্টারে (VFS Tasheel / Tasheer) সশরীরে গিয়ে পাসপোর্ট জমা ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করতে হয়। এর জন্য যা যা বাধ্যতামূলক:
- মূল পাসপোর্ট: পরিবারের প্রতিটি সদস্যের পাসপোর্ট (ন্যূনতম ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে)।
- সম্পর্কের আইনি প্রমাণপত্র: স্ত্রীর ক্ষেত্রে সরকারিভাবে নোটারি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সত্যায়িত বিবাহ সনদ (নিকাহনামা ও ইংরেজি অনুবাদ) এবং সন্তানদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ।
- প্রবাসীর ইকামা ও মোফা ভিসা পেপারের কপি: সৌদি থেকে পাঠানো এপ্রুভড ভিসা ডকুমেন্ট পেপারের স্পষ্ট রঙিন প্রিন্ট এবং প্রবাসীর ইকামার ফটোকপি।
- পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে তোলা সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ল্যাব প্রিন্ট ছবি।
বাণিজ্যিক কোম্পানির কর্মী ভিসা ও কিওয়া ই-কন্ট্রাক্টের সার্বিক নিয়ম জানতে আমাদের সৌদি কাজের ভিসা ও কিওয়া কন্টাক্ট পেপার যাচাই গাইডটি অধ্যয়ন করতে পারেন।
৪. মোফা রেজাল্ট স্ট্যাটাস ও সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ
সার্চ বাটনে চাপার পর মোফা পোর্টাল প্রবাসীর স্ক্রিনে নির্দিষ্ট কিছু স্ট্যাটাস প্রদর্শন করে। নিচে সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:
১. طلب تحت الإجراء (Application Under Process):
আবেদনটি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চেম্বার সত্যায়ন সম্পন্ন না হলে অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসারদের পর্যালোচনায় থাকলে এই স্ট্যাটাস দেখা যায়। সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়।
২. تم تصديق الطلب من الغرفة التجارية (Certified by Chamber):
এর অর্থ স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স সফলভাবে আপনার আবেদন সত্যায়ন করেছে। এখন এটি মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ক্লিকের অপেক্ষায় রয়েছে।
৩. مستند تأشيرة (Visa Document Issued - এপ্রুভড):
অভিনন্দন! আপনার ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা শতভাগ অনুমোদিত হয়েছে। স্ক্রিনে একটি অফিশিয়াল ডকুমেন্ট নম্বর ভেসে উঠবে এবং ভিসার শর্তাবলী দৃশ্যমান হবে। এই পেপারটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে বাংলাদেশে পাঠাতে হবে।
৪. الطلب غير موجود বা تم رفض الطلب (Rejected / Not Found):
যদি আবেদন বাতিল হয়, তবে ‘Rejected’ লেখা থাকবে। পেশাগত অযোগ্যতা (যেমন সাধারণ অদক্ষ শ্রমিকের পদে অনেক সময় পরিবার অনুমোদন দেওয়া হয় না) কিংবা ইকামার মেয়াদ কম থাকার কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।
সৌদি বিমানবন্দরে পরিবার অবতরণ ও বর্ডার প্রটোকল:
পরিবার যখন সৌদি আরবের কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তখন ইমিগ্রেশন ডেস্কে প্রথমবার প্রবেশের ক্ষেত্রে শিশুদের ব্যতিরেকে প্রাপ্তবয়স্ক সকল সদস্যের ডিজিটাল আঙুলের ছাপ ও চোখের স্ক্যান (আইরিশ ভেরিফিকেশন) নেওয়া হয়। জাওয়াজাত কর্মকর্তা পাসপোর্টের এন্ট্রি পেজে সৌদি আরবের বিশেষ সিল প্রদান করেন এবং হাতে একটি বর্ডার নম্বর লিখে দেন। এই বর্ডার নম্বরটি পরিবারের সৌদি আরবে অবস্থানের সময় স্বাস্থ্য সেবা এবং আবশির একাউন্টের সাথে ট্র্যাকিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রেফারেন্স হিসেবে কাজ করে।
গৃহস্থালি কর্মী বা ব্যক্তিগত ড্রাইভারদের জন্য প্রযোজ্য ভিসা প্রটোকল জানতে আমাদের সৌদি মুসানেদ ভিসা ও গৃহকর্মী চুক্তি গাইড বিস্তারিত পড়ুন।
৫. মুকিম ও আবশিরের মাধ্যমে ভিজিট ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি (Extension) ও ইনস্যুরেন্স
পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর মূল পাসপোর্টে পাওয়া ৩০ দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অনলাইনে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হয়। অন্যথায় প্রতিদিনের জন্য ভারী জরিমানার মুখে পড়তে হয়।
ভিসা এক্সটেনশন করার পর্যায়ক্রমিক ৩টি ধাপ:
১. স্বাস্থ্য বীমা (Insurance Extension): কাউন্সিল অব কো-অপারেটিভ হেলথ ইন্স্যুরেন্স (CCHI) অনুমোদিত কোনো স্থানীয় ইনস্যুরেন্স কোম্পানি (যেমন Tawuniya, Bupa বা Malath) থেকে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য ৩০ দিনের নতুন হেলথ পলিসি অনলাইনে নবায়ন করতে হবে।
২. সরকারি ফি পরিশোধ: সাদাদ (SADAD) ব্যাংকিং চ্যানেলে জনপ্রতি ভিসার এক্সটেনশন ফি হিসেবে ১০০ সৌদি রিয়াল সরকারি ট্রেজারিতে জমা দিতে হবে। ৩. আবশির পোর্টালে এক্সটেনশন রিকোয়েস্ট: প্রবাসীর নিজস্ব ‘Absher’ একাউন্টে লগইন করে ‘Family Members Services’ সেকশনে গিয়ে ‘Extend Visit Visa’ বাটনে চাপলেই ভিসার মেয়াদ আরও ৩০ দিনের জন্য বৃদ্ধি পেয়ে যায়।
মনে রাখবেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৭ দিন আগে থেকে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ৩ দিন পর পর্যন্ত আবশিরে এক্সটেনশনের অপশন সচল থাকে। ৩ দিনের বেশি পার হয়ে গেলে সিস্টেমে ৫০০ রিয়াল লেট ফাইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধার্য হয়।
তাওয়াক্কালনা (Tawakkalna) ভিজিটর রেজিস্ট্রেশন ও স্থানীয় সিম কার্ড গ্রহণ:
পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবে প্রবেশের পর বিমানবন্দর থেকেই তাদের পাসপোর্টের বর্ডার নম্বর দিয়ে স্থানীয় মোবাইল নেটওয়ার্ক (যেমন STC, Mobily বা Zain)-এর অস্থায়ী ভিজিটর সিম কার্ড ক্রয় করতে পারেন। এরপর প্রবাসীর স্মার্টফোনে অথবা পরিবারের নিজস্ব হ্যান্ডসেটে সৌদি সরকারি ‘Tawakkalna Services’ অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করে বর্ডার নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে ভিজিটর আইডি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এর মাধ্যমে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ যেকোনো সরকারি দপ্তর, ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান এবং নিরাপত্তা পয়েন্টে পরিবারের ডিজিটাল আইনি স্ট্যাটাস এক ক্লিকেই পুলিশ বা সিকিউরিটিকে প্রদর্শন করা যায়। এছাড়া মক্কা থেকে মদিনায় পরিবারের বয়স্ক ও শিশুদের আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য হারামাইন হাই-স্পিড ট্রেনের অফিশিয়াল অ্যাপ দিয়ে অগ্রিম টিকিট কেটে রাখলে ভ্রমণ অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও স্বস্তিদায়ক হয়।
৬. নকল ভিজিট ভিসা ডকুমেন্ট ও দালাল প্রতারণা থেকে সতর্কতা
কিছু অসাধু ট্রাভেল দালাল কম্পিউটার এডিটিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে আগের কোনো এপ্রুভড ফ্যামিলি ভিসার ওপর প্রবাসীর আত্মীয়ের নাম ও পাসপোর্ট নম্বর বসিয়ে নকল ‘ভিসা ডকুমেন্ট’ তৈরি করে অগ্রিম টাকা দাবি করে।
দালালদের জাল ভিসা ধরার পরীক্ষিত ৩টি উপায়:
১. লাইভ মোফা সার্চ: দালাল যে কাগজই দিক না কেন, সেই কাগজের ওপর থাকা আবেদন নম্বর ও আপনার ইকামা নম্বর দিয়ে মোফা পোর্টালে সার্চ করুন। ডাটাবেজে স্ট্যাটাস না মিললে সেটি ভুয়া।
২. কিউআর কোডের সত্যতা: আসল ফ্যামিলি ভিসা পেপারের কিউআর কোড স্ক্যান করলে সরাসরি visa.mofa.gov.sa ডোমেইনে প্রবেশ করাবে। কোনো ফাইল বা থার্ড পার্টি লিংক দেখালে তা সরাসরি বর্জন করুন।
৩. ঢাকার ভিএফএস সেন্টারে ফিঙ্গারপ্রিন্ট: বাংলাদেশে ফ্যামিলি ভিসা স্ট্যাম্পিংয়ের জন্য ঢাকার সৌদি ভিএফএস তাসহিল সেন্টারে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক ও ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দালাল যদি বলে ঘরে বসেই পাসপোর্ট স্ট্যাম্পিং করিয়ে দেবে, তবে তা নিশ্চিতভাবে প্রতারণার ফাঁদ।
ভুয়া ও নকল ভিসা শনাক্ত করার আধুনিক ফরেনসিক কলাকৌশল জানতে আমাদের বিস্তারিত গাইড আসল ও ভুয়া বা জাল ভিসা চেনার সার্বিক উপায় অবশ্যই গভীর মনোযোগের সাথে পড়ে নেওয়া উচিত।
৭. বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার জন্য প্রবাসীর বেতনের কোনো সুনির্দিষ্ট শর্ত আছে কি?
সৌদি শ্রম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অলিখিত প্রটোকল অনুযায়ী আবেদনকারী প্রবাসীর ইকামা প্রফেশন টেকনিক্যাল বা প্রফেশনাল হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং ব্যাংকে নিয়মিত বেতন ক্রেডিট হওয়ার রেকর্ড থাকা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
২. ভিজিট ভিসার স্বাস্থ্য বীমার মেয়াদ না বাড়ালে কি ভিসা বাড়ানো যায়?
না, সিচিএইচআই (CCHI) ডাটাবেজে লাইভ হেলথ ইন্স্যুরেন্স সক্রিয় না থাকলে আবশির পোর্টাল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা এক্সটেনশন আবেদন ব্লক করে দেয়। তাই আগে ইন্স্যুরেন্স নবায়ন করতে হবে।
৩. ফ্যামিলি ভিজিট ভিসায় থাকা অবস্থায় কি পবিত্র হজ পালন করা যায়?
না, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের কঠোর আইন অনুসারে ভিজিট ভিসা বা ট্যুরিস্ট ভিসাধারীদের জন্য পবিত্র হজের মৌসুমে মক্কা নগরীতে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে ওমরাহর মৌসুমে নুসুক অ্যাপ থেকে পারমিট নিয়ে ওমরাহ পালন করা যায়।
৪. ভিজিট ভিসায় অতিরিক্ত অবস্থান (Overstay) করলে কী শাস্তি হতে পারে?
ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ অতিক্রম করে অবৈধভাবে অবস্থান করলে প্রথম দফায় জনপ্রতি ১,০০০ রিয়াল, দ্বিতীয় দফায় ২,৫০০ রিয়াল এবং তৃতীয় দফায় ৫,০০০ রিয়াল জরিমানা এবং পরবর্তীতে ডিপোর্টেশন ও সৌদিতে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে।
৫. ফ্যামিলি ভিজিট ভিসার মেয়াদ কি ১৮০ দিনের বেশি বাড়ানো সম্ভব?
সৌদি জাওয়াজাতের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ভিজিট ভিসা সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যায়। ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই পরিবারকে নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে হয়।
৬. ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা চেক করতে কোনো সরকারি চার্জ লাগে কি?
না, সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আমাদের ভিসা চেক পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর দিয়ে তথ্য পরীক্ষা করা ১০০% বিনামূল্যে উন্মুক্ত নাগরিক সেবা।