সৌদি আরবে গৃহস্থালি কর্মসংস্থান ও পারিবারিক কাজের খাতে হাজার হাজার বাংলাদেশি পুরুষ ও নারী কর্মী কর্মরত রয়েছেন। অতীতে ব্যক্তিগত মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে এই খাতে লোক পাঠাতে গিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম, বকেয়া বেতন এবং মানসিক হয়রানির মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটত। কর্মীদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখা, কাজের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং বেতন শতভাগ নিশ্চিত করার মহতী উদ্দেশ্যে সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (HRSD) বিশেষায়িত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘মুসানেদ’ (Musaned) প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী কোনো কাফিল চাইলে সরাসরি বা কাগজি সই দিয়ে গৃহকর্মী আনতে পারেন না; প্রতিটি নিয়োগ মুসানেদ সিস্টেমের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হতে হয়।

আপনি যদি সৌদি আরবে হাউজ ড্রাইভার, গৃহপরিচারিকা বা কেয়ারগিভার হিসেবে গমনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে যাত্রার পূর্বে আপনার মুসানেদ ভিসা এবং চুক্তিপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করা আপনার মৌলিক দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক পরিসরে যেকোনো দেশের ভিসা যাচাইয়ের সাধারণ ডাটাবেজ কৌশল জানতে আমাদের অনলাইনে ভিসা চেক করার সঠিক নিয়মাবলী গাইডটি সহায়ক হবে। এছাড়া সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ভিসা নির্দেশিকা পেতে আমাদের সৌদি আরব ভিসা চেক নির্দেশিকা মূল হাব পেজটিতে চোখ রাখতে পারেন।


১. মুসানেদ (Musaned) ভিসা ব্যবস্থা ও গৃহকর্মীদের আইনি সুরক্ষার রূপরেখা

সৌদি সরকারের ‘মুসানেদ’ প্ল্যাটফর্ম হলো গৃহস্থালি কর্মী (Domestic Workers) নিয়োগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ। বেসরকারি কোম্পানির কর্মীরা যেখানে কিওয়া (Qiwa) সিস্টেমের অধীনে থাকেন, সেখানে গৃহকর্মীদের নিয়োগ, চুক্তি ও বেতন ট্র্যাকিং সম্পূর্ণভাবে মুসানেদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

সৌদি মুসানেদ অফিশিয়াল ডোমেস্টিক ওয়ার্কার ভিসা প্ল্যাটফর্ম ইন্টারফেস
চিত্র ১: সৌদি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুসানেদ অনলাইন ডোমেস্টিক ভিসা প্ল্যাটফর্ম কনসোল

মুসানেদ ব্যবস্থার প্রধান ৫টি আইনি সুবিধা:

১. ডিজিটাল প্রমিত চুক্তিপত্র: প্রতিটি চুক্তি দুই দেশের সরকারি ভাষায় (আরবি ও ইংরেজি/বাংলা) স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকে। কাফিল নিজ ইচ্ছায় বেতন বা কাজের শর্তাবলী পরিবর্তন করতে পারেন না। ২. বেতন ট্র্যাকিং ও প্রি-পেইড কার্ড: মুসানেদের নিয়মানুযায়ী কর্মীকে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর ডিজিটাল স্যালারি কার্ড প্রদান করতে হয় এবং প্রতি মাসের বেতন ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধের ডিজিটাল রেকর্ড জমা রাখতে হয়। ৩. বিমা সুরক্ষা (Domestic Worker Insurance): কর্মীর অসুস্থতা, দুর্ঘটনাজনিত অক্ষমতা বা আকস্মিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য ও ক্ষতিপূরণ বিমা মুসানেদ পোর্টাল কর্তৃক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৪. চুক্তি বাতিলের আইনি অধিকার: যদি কাফিল চুক্তি লঙ্ঘন করেন বা শারীরিক নির্যাতন করেন, তবে কর্মী মুসানেদের হেল্পলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করে কাফালা পরিবর্তন বা দেশে ফেরার আইনি প্রতিকার পান। ৫. পাসপোর্ট আটকে রাখা নিষিদ্ধ: সৌদি আইন অনুযায়ী কোনো কাফিলের কর্মীর পাসপোর্ট নিজের কাছে জোরপূর্বক আটকে রাখার কোনো অধিকার নেই; পাসপোর্ট সর্বদা প্রবাসীর নিজস্ব জিম্মায় থাকবে।

সাধারণ বাণিজ্যিক কাজের ভিসা ও ইলেকট্রনিক চুক্তির নিয়ম বিস্তারিত জানার জন্য আমাদের সৌদি কাজের ভিসা ও কিওয়া কন্টাক্ট পেপার যাচাই গাইডটি দেখে নিতে পারেন।


২. মুসানেদ পোর্টালে ডোমেস্টিক ওয়ার্কার ভিসা ট্র্যাকিংয়ের বাস্তব পদ্ধতি

মুসানেদ সিস্টেমে ভিসা আবেদন সাবমিট হলে একটি ইউনিক অ্যাপ্লিকেশন আইডি তৈরি হয়। ভিসাটি অনুমোদিত হয়েছে কিনা এবং কাফিল সঠিক তথ্য দিয়েছেন কিনা তা আপনি সরাসরি অনলাইনেই যাচাই করতে পারবেন।

ভিসা চেক অ্যাপে মুসানেদ ভিসা ও চুক্তিপত্র ট্র্যাকিং স্ক্রিন
চিত্র ২: ভিসা চেক অ্যাপের মাধ্যমে মুসানেদ চুক্তিপত্র ও স্পনসর অনুসন্ধানের সহজ স্ক্রিন

ধাপে ধাপে মুসানেদ ভিসা অনুসন্ধান করার নিয়ম:

  • ধাপ ১: আমাদের বিশেষায়িত ভিসা চেক অ্যাপ ব্যবহার করুন অথবা ব্রাউজারে musaned.com.sa লিংকে প্রবেশ করুন।
  • ধাপ ২: হোমপেজের মেন্যু থেকে ‘Track Application’ বা ‘আবেদন অনুসন্ধান’ অপশনটি বেছে নিন।
  • ধাপ ৩: আপনার ভিসা আবেদন নম্বর (Application Number) অথবা পাসপোর্ট নম্বর প্রদান করুন।
  • ধাপ ৪: কাফিলের ন্যাশনাল আইডি (Sponsor National ID) অথবা ইকামা নম্বর এবং জন্মতারিখ ইনপুট দিন।
  • ধাপ ৫: সাবমিট বাটনে চাপ দিলে সিস্টেমে ভিসার অগ্রগতি, স্পনসরের নাম, অনুমোদিত পেশা এবং বাংলাদেশ ও সৌদিস্থ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।

যদি মুসানেদে স্ট্যাটাস ‘Approved’ (অনুমোদিত) দেখায়, তবেই বুঝতে হবে আপনার ভিসা সরকারিভাবে কার্যকর হয়েছে।

মুসানেদ ভিসা স্ট্যাটাস লাইফসাইকেল ও অর্থ:

১. Contract Drafted (চুক্তি প্রণয়ন): কাফিল মুসানেদ পোর্টালে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র পূরণ করেছেন কিন্তু এজেন্সির সম্মতি বা ফি পরিশোধ বাকি রয়েছে। ২. Contract Authenticated (চুক্তি সত্যায়িত): সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট মিশন চুক্তিটি অনুমোদন করেছে। ৩. Visa Issued (ভিসা ইস্যুকৃত): সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভিসা নম্বর ও ওয়াকালা সক্রিয় হয়েছে। এখন এটি ঢাকায় সৌদি দূতাবাসে পাসপোর্টসহ জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। ৪. Application Rejected (বাতিল): কোনো তথ্যে অসঙ্গতি বা কাফিলের আর্থিক অক্ষমতার কারণে আবেদন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

ব্যক্তিগত গাড়ি চালকদের (House Driver) লাইসেন্স ও ট্রাফিক প্রটোকল:

সৌদি আরবে যারা গৃহকর্মী হিসেবে ব্যক্তিগত ড্রাইভার (খাস ড্রাইভার / সাইক খাস) পদে গমন করেন, তাদের জন্য বিশেষ কিছু আইনি সতর্কতা রয়েছে:

  • সৌদি ড্রাইভিং লাইসেন্স রূপান্তর: বাংলাদেশে ড্রাইভ করার অভিজ্ঞতা থাকলেও সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ (দাল্লাহ স্কুল / মোরুর)-এ কম্পিউটার থিওরি ও রোড টেস্ট দিয়ে স্থানীয় লাইসেন্স অর্জন করতে হয়।
  • ট্রাফিক জরিমানা (মুক্কালাফা): সৌদি আরবের রাস্তাঘাটে অটোমেটেড ক্যামেরা (Saher) সিস্টেম কার্যকর থাকায় সিগন্যাল অমান্য বা গতিসীমা লঙ্ঘনের জরিমানা সরাসরি চালক বা কাফিলের ফাইলে জমা হয়। চুক্তির নিয়মানুযায়ী গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির দায় কাফিলের হলেও ট্রাফিক আইন অমান্যের দায়ভার চালকের ওপর বর্তায়।
  • জিপিএস ও স্মার্ট নেভিগেশন ব্যবহার: রিয়াদ, জেদ্দার মতো ব্যস্ত নগরীতে চলাচলের সুবিধার্থে প্রবাসীদের গুগল ম্যাপস বা স্থানীয় ওয়াইজ অ্যাপ চালানো শিখতে হবে।

পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সৌদি আরবে ভ্রমণের আমন্ত্রণপত্র যাচাই করার নিয়ম আমাদের সৌদি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা চেক ও মোফা এপ্রুভাল গাইডে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।


৩. কাফিল স্পনসরশিপ দায়বদ্ধতা, মাসিক বেতন সুরক্ষা ও গৃহকর্মী অধিকার

মুসানেদ চুক্তির সবচেয়ে বড় দিক হলো নিয়োগকারীর ওপর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ। সৌদি আরবে গৃহকর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার কঠোর আইন প্রয়োগ করে থাকে।

সৌদি কাফিল স্পনসরশিপ দায়বদ্ধতা ও গৃহকর্মী আইনি অধিকার গাইড
চিত্র ৩: সৌদি শ্রম আইনে গৃহকর্মী ও ড্রাইভারদের আইনি অধিকার ও বেতন সুরক্ষা ফ্রেমওয়ার্ক

কাফিলের প্রধান সরকারি বাধ্যবাধকতাসমূহ:

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম: গৃহকর্মীকে দৈনিক টানা ন্যূনতম ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রামের সুযোগ দিতে হবে এবং সপ্তাহে একদিন পূর্ণ ছুটি প্রদান বাধ্যতামূলক।
  • মানসম্মত আবাসন ও খাবার: কর্মীর জন্য একটি পৃথক, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত শোবার ঘর এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা কাফিলের দায়িত্ব।
  • বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ: কর্মীর যেকোনো অসুস্থতায় সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার নিয়োগকারী বহন করবেন।
  • যোগাযোগের স্বাধীনতা: পরিবারের সাথে কথা বলার জন্য কর্মীকে নিজস্ব মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করতে হবে।

গৃহকর্মী ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্স ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিরাপত্তা:

সৌদি সরকারের নতুন শ্রম সংস্কার নীতির অধীনে মুসানেদ প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি গৃহকর্মীর জন্য দুই বছর মেয়াদি ‘কম্প্রিহেন্সিভ ডোমেস্টিক ওয়ার্কার ইন্স্যুরেন্স’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পলিসির অধীনে: ১. কাফিল যদি টানা তিন মাস কোনো কারণ ছাড়া বেতন আটকে রাখেন, তবে বিমা কোম্পানি কর্মীকে সরাসরি বকেয়া বেতনের অর্থ পরিশোধ করতে আইনত বাধ্য থাকে। ২. কাফিল যদি আকস্মিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন বা দেউলিয়া হয়ে যান, তবে কর্মীর নিজ দেশে ফিরে আসার এয়ার টিকিট ও সকল বকেয়া পাওনা বিমা ফান্ড থেকে প্রদান করা হয়। ৩. কর্মক্ষেত্রের যেকোনো দুর্ঘটনাজনিত স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত স্বাস্থ্য সুবিধা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ সরাসরি কর্মীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।


৪. ঢাকা সৌদি দূতাবাস সত্যায়ন, বিএমইটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ব্রিফিং নির্দেশিকা

মুসানেদ চুক্তি অনলাইনে সম্পাদিত হওয়ার পর বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় কিছু অফিশিয়াল কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়।

ঢাকা সৌদি দূতাবাস ভিসা সত্যায়ন ও বিএমইটি স্মার্ট কার্ড ব্রিফিং
চিত্র ৪: ঢাকায় সৌদি দূতাবাস সত্যায়ন ও বিএমইটি প্রাক-বহির্গমন ব্রিফিং প্রসেস

বাংলাদেশ অংশে যে ধাপগুলো বাধ্যতামূলক:

১. বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ ও জেদ্দা সত্যায়ন: কাফিল যখন মুসানেদে ডিমান্ড লেটার দেন, তখন সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং সেটি মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে অনলাইন সত্যায়ন (Attestation) প্রদান করে। ২. বিএমইটি ট্রেনিং ও ব্রিফিং: বিশেষ করে নারী গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রে ঢাকার টিটিসি কেন্দ্রে ৩০ দিনের বাধ্যতামূলক ভাষা ও গৃহস্থালি কাজের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। প্রশিক্ষণ শেষে সরকারি সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়। ৩. বায়োমেট্রিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও স্মার্ট কার্ড: জনশক্তি ব্যুরোর স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। আমাদের বিএমইটি কার্ড চেক টুল ব্যবহার করে কিউআর কোড স্ক্যান করে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার কার্ডটি ডাটাবেজে সক্রিয় রয়েছে কিনা। ৪. সৌদি দূতাবাস ভিসা স্ট্যাম্পিং: সকল কাগজপত্র ঠিক থাকলে ঢাকার সৌদি দূতাবাস পাসপোর্টে ডিজিটাল ভিসা অনুমোদন দেয়।

কাফিলের সাথে বিরোধ নিষ্পত্তি ও আইনি অধিকার আদায়ের কৌশল:

সৌদি আরবে অবস্থানকালে যদি কোনো কারণে কাফিলের সাথে বেতন বা আচরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের আইনি পথগুলো অনুসরণ করা যায়:

  • মুসানেদ ডিজিটাল বিরোধ সমাধান ডেস্ক: মুসানেদ পোর্টালে সরাসরি আরবি বা ইংরেজিতে নিয়োগকারীর বিরুদ্ধে অনলাইন বিরোধ (Dispute) ফাইল করা যায়। অভিযোগ পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কাফিলকে তলব করেন।
  • শ্রম মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও আশ্রমে আশ্রয়: নারী কর্মীরা জটিল পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সরকারি সমাজকল্যাণ বিভাগ (দারুল জিয়াফা / সেফ হোম)-এ সরাসরি আশ্রয় গ্রহণ করতে পারেন। সেখানে সরকারি খরচে খাবার, আবাসন ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।
  • কাফালা পরিবর্তনের সুযোগ: অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনো প্রকার স্পনসর ফি ছাড়াই কর্মী অন্য কোনো পরিবারে আইনগতভাবে স্থানান্তর হতে পারেন অথবা পূর্ণ বকেয়া নিয়ে সম্মানজনকভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করতে পারেন।

৫. ফ্রি ভিসা ও নকল মুসানেদ পেপারের ফাঁদ থেকে বাঁচার সতর্কতা

দালালরা অনেক সময় সাধারণ যুবকদের ‘ফ্রি ভিসা’ বা ‘আজাদ ভিসা’র কথা বলে মুসানেদের গৃহকর্মী বা ড্রাইভার ভিসা দিয়ে সৌদি পাঠায়। তারা বলে—“সেখানে গিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো কাজ করতে পারবে।” এটি একটি ভয়ংকর প্রতারণা।

নকল মুসানেদ ভিসা শনাক্তকরণ ও দালাল প্রতারণা প্রতিরোধ রাডার
চিত্র ৫: ভুয়া মুসানেদ পেপার ও দালাল প্রতারণা শনাক্তকরণের সিকিউরিটি রাডার

দালালদের ফাঁদ চেনার ৫টি লক্ষণ:

  • ভুয়া মুক্ত কাজের প্রতিশ্রুতি: মুসানেদ ভিসায় কোনো মুক্ত বা উন্মুক্ত কাজের সুযোগ নেই। ভিসা যার নামে, কেবলমাত্র তার বাসাতেই কাজ করতে হবে। বাইরে কাজ করলে পুলিশি অভিযানে ধরা পড়ার ঝুঁকি থাকে।
  • এডিটেড প্রিন্ট কপি: দালালরা প্রায়ই সাধারণ কাগজের ওপর ভুয়া কিউআর কোড এবং মুসানেদের প্রতীক লাগিয়ে দেয়। আপনার মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে কিউআর স্ক্যান করলেই আসল সত্য উদঘাটিত হবে।
  • অতিরিক্ত টাকার দাবি: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নারী গৃহকর্মীদের জন্য সৌদি কাফিল সকল খরচ বহন করেন, তাই তাদের কোনো অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া লাগে না। দালালরা যদি লাখ লাখ টাকা দাবি করে, তবে তা সরাসরি বর্জন করুন।

জাল ও ভুয়া ভিসা শনাক্ত করার আন্তর্জাতিক ও টেকনিক্যাল সকল ফরেনসিক পদ্ধতি বিস্তারিত শিখতে আমাদের বিশেষায়িত মাস্টার পিলার আসল ও ভুয়া বা জাল ভিসা চেনার সার্বিক উপায় অবশ্যই গভীর মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন।


৬. জরুরি প্রয়োজনে প্রবাসী হেল্পলাইন ও আইনি সহায়তা কেন্দ্র

সৌদি আরবে কোনো গৃহকর্মী যদি শারীরিক নির্যাতন, বেতনহীনতা বা বন্দিদশার শিকার হন, তবে ভয় না পেয়ে সাথে সাথে সরকারি আইনি সহায়তা নেওয়া সম্ভব।

জরুরি যোগাযোগ নম্বরসমূহ:

  • মুসানেদ কেন্দ্রীয় হটলাইন (সৌদি আরব): 19911 (২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক জরুরি সেবা, বহুভাষিক সাপোর্ট)।
  • সৌদি পুলিশ হেল্পলাইন: 999 (যেকোনো নির্যাতন বা অন্যায়ের ক্ষেত্রে সরাসরি পুলিশের সাহায্য নেওয়া যায়)।
  • বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ শ্রম উইং: +966 11 419 5300
  • বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল জেদ্দা: +966 12 687 8464
  • প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড: +880 2 933 6500

৭. বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. মুসানেদে ভিসা চেক করতে কত টাকা সরকারি ফি লাগে?

মুসানেদ পোর্টালে বা আমাদের ভিসা চেক সিস্টেমে পাসপোর্ট নম্বর ও অ্যাপ্লিকেশন আইডি দিয়ে যেকোনো তথ্য যাচাই করা সম্পূর্ণ ১০০% বিনামূল্যে।

২. মুসানেদ ভিসা হতে সাধারণত কতদিন সময় লাগে?

কাফিল আবেদন করার পর বাংলাদেশ দূতাবাস সত্যায়ন এবং সৌদি দূতাবাসের স্ট্যাম্পিং মিলিয়ে সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

৩. গৃহকর্মী কি ছুটির দিনে পরিবারের সাথে দেশে আসতে পারেন?

হ্যাঁ, দুই বছরের চুক্তি সমাপ্তির পর কাফিল নিজ খরচে কর্মীকে উভয় পথের রিটার্ন এয়ার টিকিটসহ ৩০ দিনের বেতনসহ দেশে ছুটি কাটানোর সুযোগ দিতে আইনত বাধ্য।

৪. মুসানেদ চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা কি বাধ্যতামূলক?

না, চুক্তিতে যে সুনির্দিষ্ট কাজের কথা (যেমন হাউজ ড্রাইভার বা হাউজমেড) লেখা থাকবে, কর্মীকে কেবল সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। কাফিলের আত্মীয় বা অন্য কারো বাড়িতে কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনি।

৫. কোনো দালাল মুসানেদের নামে ভুয়া কাগজ দিলে করণীয় কী?

প্রতারণার শিকার হলে অবিলম্বে নিকটস্থ থানা এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত সেলে দালালের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যাংক লেনদেনের রসিদসহ সরাসরি আইনি অভিযোগ দায়ের করতে হবে।

৬. মুসানেদ ভিসা চেক করে যদি কোনো তথ্য না দেখায় তবে কী বুঝবেন?

যদি ডাটাবেজে রেকর্ড খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে বুঝতে হবে দালাল কোনো আবেদন সাবমিট করেনি অথবা আপনার পাসপোর্ট নম্বর টাইপিংয়ে ভুল হয়েছে। এজেন্সিকে সরকারি মুসানেদ নম্বর দেওয়ার তাগিদ দিন।