সৌদি আরব মুসলিম উম্মাহর পবিত্র ভূমি হওয়ায় প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান পবিত্র ওমরাহ পালন এবং ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে দেশটিতে সফর করেন। আধুনিক সৌদি সরকারের রূপকল্প ২০৩০-এর অংশ হিসেবে ভিসা ব্যবস্থার বৈপ্লবিক ডিজিটালাইজেশন সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বে যেখানে পাসপোর্টে ফিজিক্যাল স্টিকার ভিসার জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে বর্তমানে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন ইলেকট্রনিক ভিসা বা ই-ভিসা (e-Visa) চালু রয়েছে। তবে এই ডিজিটাল অগ্রগতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী ও ভুয়া ওমরাহ কাফেলা সাধারণ হাজিদের ভুয়া স্ক্যান কপি বা নকল ভিসা পেপার ধরিয়ে দিয়ে প্রতারণা করছে। তাই যেকোনো এজেন্সিকে অর্থ পরিশোধ করার পূর্বে আপনার ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসার আসল অবস্থা যাচাই করা অপরিহার্য একটি দায়িত্ব।
এই সমন্বিত নির্দেশিকায় আমরা সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করব কীভাবে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যে ঘরে বসেই সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল ডাটাবেজ থেকে আসল ভিসা স্ট্যাটাস যাচাই করতে পারবেন। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের ভিসা যাচাইয়ের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সাধারণ প্রযুক্তিগত কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে আমাদের অনলাইনে ভিসা চেক করার সঠিক নিয়মাবলী সম্পর্কিত মৌলিক গাইডটি অনুসরণ করতে পারেন। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ভিসা যেমন কাজের ভিসা বা ভিজিট ভিসার কেন্দ্রীয় তথ্য জানতে আমাদের সৌদি আরব ভিসা চেক নির্দেশিকা মূল হাব পেজটিতে চোখ রাখতে পারেন।
১. সৌদি ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ই-ভিসার সরকারি প্ল্যাটফর্ম ও কাঠামো
সৌদি আরবের সমস্ত প্রকার ভিসা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs - MOFA)। পূর্বে এটি ‘এনজাজ’ (Enjazit) প্ল্যাটফর্ম নামে পরিচালিত হলেও বর্তমানে এটিকে সম্পূর্ণভাবে কেএসএ ভিসা প্ল্যাটফর্ম (KSA Visa Platform)-এ রূপান্তরিত করা হয়েছে। ওমরাহ ভিসা মূলত সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ওমরাহ কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে সিস্টেম জেনারেটেড হয় এবং তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল ইমিগ্রেশন সার্ভারে রেকর্ডভুক্ত থাকে।
ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসার প্রধান প্রকারভেদ:
১. সিঙ্গেল এন্ট্রি ওমরাহ ই-ভিসা: এটি মূলত ওমরাহ পালনের জন্য ইস্যু করা হয়। ভিসার মেয়াদ সাধারণত ৯০ দিন থাকে এবং দেশটিতে একবার প্রবেশের পর সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করা যায়। ২. মাল্টিপল এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ই-ভিসা: যাদের পাসপোর্টে ইউএসএ, ইউকে বা সেনজেন দেশের ভ্যালিড ব্যবহৃত ভিসা রয়েছে কিংবা জিসিসি রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ্য, তারা ১ বছর মেয়াদি মাল্টিপল এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ভিসা পান। এতে প্রতিবারে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যায়। ৩. ট্রানজিট ওমরাহ ভিসা: সৌদি এয়ারলাইন্স (Saudia বা Flynas) দিয়ে তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার পথে ৯৬ ঘণ্টার জন্য বিনামূল্যে ট্রানজিট ভিসা নিয়ে ওমরাহ পালন করা সম্ভব।
যেকোনো ভিসা পরীক্ষা করার জন্য মূল তথ্য হলো আপনার পাসপোর্ট নম্বর (Passport Number) এবং ভিসার আবেদন করার পর যে ৯ থেকে ১০ ডিজিটের রেফারেন্স নম্বর তৈরি হয়, যাকে বলা হয় ভিসা অ্যাপ্লিকেশন নম্বর (Application No বা E-Number)।
২. সহজ পেস্ট ও ভিসা চেক অ্যাপ দিয়ে মোফা (MOFA) পোর্টালে সার্চ করার পর্যায়ক্রমিক নিয়ম
সাধারণ প্রবাসীদের সুবিধার জন্য এবং ভুল বানান বা সংখ্যা টাইপ করার ঝুঁকি এড়াতে আমাদের ভিসা চেক অ্যাপ বিশেষায়িত ওয়ান-ক্লিক পোর্টাল গেটওয়ে সরবরাহ করে। হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমো থেকে কপি করা পাসপোর্ট নম্বর ভুল ছাড়াই বসানোর জন্য এই অ্যাপটি সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।
ধাপে ধাপে অনলাইন ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া:
- ধাপ ১ (অ্যাপ ওপেন ও দেশ নির্বাচন): প্রথমে ভিসা চেক অ্যাপে প্রবেশ করে দেশ তালিকা থেকে সৌদি আরব নির্বাচন করুন এবং সেবামূলক বিকল্প থেকে সৌদি ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসা কার্ডটিতে ক্লিক করুন।
- ধাপ ২ (সহজ পেস্টে তথ্য পূরণ): আপনার ভিসা আবেদন পেপার দেখে অ্যাপ্লিকেশন নম্বর (যা সাধারণত ইংরেজি ‘E’ দিয়ে শুরু হয়) প্রথম বক্সে লিখুন। এরপর নিচের বক্সে আপনার পাসপোর্ট নম্বর দিন। আপনি চাইলে
📋 পেস্টবাটনে চাপ দিয়ে কপি করা নম্বরটি এক ক্লিকেই বসিয়ে দিতে পারেন। - ধাপ ৩ (সরকারি পোর্টালে সংযোগ): ফর্মের নিচে থাকা উজ্জ্বল
🌐 সরকারি পোর্টালে সরাসরি চেক করুনবাটনে প্রেস করুন। অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনাকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (visa.mofa.gov.sa) এনক্রিপ্টেড পোর্টালে নিয়ে যাবে। - ধাপ ৪ (কুইক-পেস্ট ও সার্চ): সরকারি পোর্টালে গিয়ে পুনরায় বড় নম্বর লেখার প্রয়োজন নেই; স্ক্রিনের ওপর প্রদর্শিত ভাসমান
⚡ কুইক-পেস্টবাটন থেকে এক ট্যাপেই নম্বর সরকারি বক্সে পেস্ট করে দিন। স্ক্রিনে থাকা ৪ ডিজিটের ইমেজ কোড (Captcha) টাইপ করে ‘Inquire’ বাটনে চাপুন।
৩. মোফা রেজাল্ট ডিকোড ও ৫-ধাপের বাংলা চেকলিস্ট নির্দেশিকা
সার্চ বাটনে চাপার পর সার্ভার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ফলাফল প্রদর্শন করে। তবে অনেকেই স্ক্রিনে প্রদর্শিত ইংরেজি ও আরবি পরিভাষাগুলো বুঝতে পারেন না। কোনো টেকনিক্যাল জটিলতায় পড়লে অ্যাপের ডায়ালগ থেকে ৫-ধাপের বাংলা গাইডলাইন দেখে নিতে পারেন।
স্ট্যাটাস ফলাফল ও সেগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা:
১. Issued / Valid (সবুজ বা কার্যকর স্ট্যাটাস): এর অর্থ আপনার ওমরাহ ভিসা শতভাগ অনুমোদিত হয়েছে। স্ক্রিনে আবেদনকারীর ছবি, পূর্ণ নাম, ওমরাহ কাফেলার নাম, ভিসা নম্বর এবং বারকোড দৃশ্যমান হবে। আপনি নিশ্চিতভাবে এই ভিসা প্রিন্ট করে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে পারেন। ২. Application Under Processing (আবেদন প্রক্রিয়াধীন): ওমরাহ কোম্পানির মাধ্যমে ফাইল সাবমিট করা হলেও সৌদি হজ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন এখনো বাকি রয়েছে। সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি ইস্যু হয়ে যায়। ৩. Application Not Found (আবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি): যদি এই বার্তা প্রদর্শিত হয়, তবে এর দুটি কারণ থাকতে পারে—হয়তো আপনার পাসপোর্ট নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন নম্বরের কোনো সংখ্যা ভুল টাইপ করেছেন, অথবা কাফেলা এজেন্সি ভিসা আবেদনের কোনো কাজই সম্পন্ন করেনি কিন্তু মুখে দাবি করছে ভিসা হয়ে গেছে। ৪. Expired (মেয়াদোত্তীর্ণ): ভিসা ইস্যু হওয়ার পর নির্ধারিত ৯০ দিনের ট্রাভেল উইন্ডোর মধ্যে যদি সৌদি আরবে প্রবেশ না করা হয়, তবে সিস্টেম ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে দেয়।
ধর্মীয় সফর ছাড়া যারা মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের জন্য যেতে আগ্রহী, তারা কাজের ভিসা ও লেবার কন্ট্রাক্ট যাচাইয়ের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম জানতে আমাদের সৌদি কাজের ভিসা ও কিওয়া কন্টাক্ট পেপার যাচাই গাইডটি অধ্যয়ন করতে পারেন।
৪. ওমরাহ ও ট্যুরিস্ট ভিসার শর্তাবলী, মেয়াদ ও সরকারি ফি চার্ট ২০২৬
পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য সঠিক নিয়মনীতি না জানার কারণে বিমানবন্দরে অনেক যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। ২০২৬ সালের জন্য সৌদি সরকারের হালনাগাদ ফি এবং নীতিমালার তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো:
| ভিসার ধরন | একক এন্ট্রি অনুমোদন | সৌদি প্রবেশের মেয়াদ | সৌদিতে অবস্থানের মেয়াদ | আনুমানিক সরকারি ফি (SAR) | স্বাস্থ্য বীমা কভারেজ |
|---|---|---|---|---|---|
| ওমরাহ ই-ভিসা (Umrah e-Visa) | সিঙ্গেল এন্ট্রি | ইস্যু থেকে ৯০ দিন | সর্বোচ্চ ৯০ দিন | ৩০০ রিয়াল (ভ্যাট ও সার্ভিস প্রযোজ্য) | সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্ত |
| ট্যুরিস্ট ই-ভিসা (Tourist e-Visa) | মাল্টিপল এন্ট্রি | ১ বছর (৩৬৫ দিন) | প্রতিবারে সর্বোচ্চ ৯০ দিন | ৩৯৫ রিয়াল (বীমাসহ) | জরুরি চিকিৎসা কভারেজ |
| ট্রানজিট ওমরাহ ভিসা (Stopover) | সিঙ্গেল এন্ট্রি | ইস্যু থেকে ৯০ দিন | সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা (৪ দিন) | বিনামূল্যে (প্রসেসিং নামমাত্র) | সীমিতকালীন |
| ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা (Visit) | সিঙ্গেল / মাল্টিপল | ৯০ দিন বা ১ বছর | ৩০ দিন (নবায়নযোগ্য) | ২০০ রিয়াল (স্ট্যাম্পিং ফি আলাদা) | বাধ্যতামূলক প্রযোজ্য |
পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরবে এনে একসাথে ওমরাহ করাতে চাইলে আবেদন ও চেম্বার সত্যায়নের বিস্তারিত নিয়মাবলী আমাদের সৌদি ফ্যামিলি ভিজিট ভিসা চেক ও মোফা এপ্রুভাল গাইডে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
৫. নকল ওমরাহ ভিসা শনাক্তকরণ, কিউআর কোড নিরাপত্তা ও দালাল প্রতারণা প্রতিরোধ
দালাল চক্র প্রায়ই কম্পিউটারে ফটোশপের মাধ্যমে আসল ওমরাহ ভিসার ফন্ট ও লোগো পরিবর্তন করে নিরীহ মানুষের হাতে ধরিয়ে দেয়। তবে সৌদি সরকারের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই সুরক্ষিত যে সামান্য কিছু পরীক্ষা করলেই আসল ও নকলের তফাত ধরা পড়ে।
ভুয়া ভিসা চেনার অব্যর্থ ৫টি কৌশল:
১. ক্রিপ্টোগ্রাফিক কিউআর কোড স্ক্যান: আসল ওমরাহ ভিসা পেপারের ওপরের অংশে একটি স্পষ্ট কিউআর কোড থাকে। আপনার ফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলে লিংকটি অবশ্যই সরাসরি visa.mofa.gov.sa ডোমেইনে খুলবে। কোনো সাধারণ লিংক, টেক্সট বা থার্ড-পার্টি ডোমেইন দেখালে তা নিশ্চিত প্রতারণা।
২. নিরাপত্তা ওয়াটারমার্ক ও এমবসিং: আসল ডিজিটাল ভিসা পেপারের ব্যাকগ্রাউন্ডে সৌদি জাতীয় প্রতীক (খেজুর গাছ ও আড়াআড়ি তলোয়ার) হালকা জলছাপ আকারে নিখুঁত থাকে। জাল পেপারে এটি প্রায়ই ঝাপসা দেখা যায়।
৩. পাসপোর্ট নম্বরের সাথে আরবি ও ইংরেজি নামের মিল: অনেক সময় ভুয়া ভিসায় ফটোশপ করার কারণে প্রার্থীর ইংরেজি নাম ঠিক থাকলেও আরবি নামের বানানে গোলমাল থাকে।
৪. ওমরাহ কোম্পানির লাইসেন্স কোড: প্রতিটি ওমরাহ ভিসায় সৌদিস্থ অনুমোদিত ওমরাহ কোম্পানির নাম ও লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ থাকে। মোফা পোর্টালে এই লাইসেন্সটি সক্রিয় থাকা বাধ্যতামূলক।
৫. অ্যাপ্লিকেশন ডাটাবেজ ম্যাচ: কাগজ যত সুন্দরই দেখাক না কেন, যদি মোফা পোর্টালে পাসপোর্ট নম্বর দিলে স্ট্যাটাস ভ্যালিড না দেখায়, তবে সেই কাগজের আন্তর্জাতিক কোনো মূল্য নেই।
জাল ভিসা চেনার আন্তর্জাতিক ও টেকনিক্যাল সকল ফরেনসিক পদ্ধতি বিস্তারিত শিখতে আমাদের বিশেষায়িত মাস্টার পিলার আসল ও ভুয়া বা জাল ভিসা চেনার সার্বিক উপায় অবশ্যই গভীর মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন।
৬. ওভারস্টে জরিমানা, ইনস্যুরেন্স কভারেজ ও বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পারাপার সতর্কতা
ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়ে ভিসার নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা (Overstay) একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। ২০২৩ সালের পর থেকে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর (জাওয়াজাত) অতিরিক্ত অবস্থানের ওপর কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আইনগত নিয়ম ও আর্থিক জরিমানা:
- ওভারস্টে জরিমানা: ভিসার অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পর সৌদি আরবে অবস্থান করলে জনপ্রতি ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
- কারাদণ্ড ও ব্ল্যাকলিস্ট: অতিরিক্ত অবস্থানকারীকে ডিটেনশন সেন্টারে রেখে ডিপোর্ট করা হয় এবং পরবর্তীতে সৌদি আরবসহ সকল জিসিসি দেশে ৫ থেকে ১০ বছরের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ (Blacklist) করা হয়।
- স্বাস্থ্য বীমার গুরুত্ব: প্রতিটি অনুমোদিত ওমরাহ ভিসার সাথে সমন্বিত মেডিকেল ইনস্যুরেন্স পলিসি যুক্ত থাকে। এর আওতায় সৌদি আরবের যেকোনো সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা, দুর্ঘটনাজনিত সেবা এবং কোভিড সংক্রান্ত চিকিৎসার খরচ বহন করা হয়।
ইমিগ্রেশন পারাপারের চেকলিস্ট ও প্রস্তুতি:
১. মূল পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে এবং কোনো পৃষ্ঠা ছেঁড়া বা বিকৃত থাকা চলবে না)। ২. অনুমোদিত ওমরাহ ই-ভিসার পরিষ্কার রঙিন প্রিন্ট কপি (A4 সাইজের কাগজে উচ্চ রেজোলিউশনের কপি সাথে রাখা আবশ্যক)। ৩. নিশ্চিত ফিরতি এয়ার টিকিট (Confirmed Return Air Ticket) এবং ভ্রমণের উপযুক্ত ভ্রমণ বীমার প্রমাণপত্র। ৪. হোটেল বুকিং ভাউচার ও ওমরাহ ট্রান্সপোর্ট বিবরণী (সৌদি আরবের অনুমোদিত পরিবহন ব্যবস্থার রসিদ)। ৫. সৌদি পৌঁছানোর পর পবিত্র কাবা শরীফে প্রবেশের জন্য মোবাইলে ‘Nusuk’ অ্যাপ ডাউনলোড ও ওমরাহ পারমিট বুকিং।
নুসুক (Nusuk) অ্যাপ ও রওজা শরিফ পারমিটের নিয়ম:
সৌদি সরকারের বর্তমান নিয়মানুযায়ী ওমরাহ ভিসা পাওয়ার পর প্রতিটি যাত্রীকে তার স্মার্টফোনে সরকারি ‘Nusuk’ অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করতে হয়। পাসপোর্টের তথ্য ও ভিসা নম্বর দিয়ে প্রোফাইল খোলার পর পবিত্র কাবা শরিফে তাওয়াফ ও ওমরাহ করার নির্দিষ্ট সময় স্লট বুকিং দিতে হয়। একইভাবে মদিনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববীতে রওজা শরিফ (রিয়াদুল জান্নাহ) জিয়ারতের জন্য নুসুক অ্যাপ থেকে একক নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক সময়ে পারমিট সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক। পারমিট ব্যতীত নিরাপত্তা প্রহরীরা রওজা শরিফের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করেন না। নুসুক অ্যাপে লগইন করতে কোনো সমস্যা হলে বিমানবন্দরের হেল্প ডেস্ক কিংবা স্থানীয় ওমরাহ গাইডদের সহায়তা গ্রহণ করা যায়।
৭. বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. ওমরাহ ভিসা হতে কত কর্মদিবস সময় লাগে?
আধুনিক সৌদি মোফা প্ল্যাটফর্মে ওমরাহ ই-ভিসা সাধারণত আবেদন জমা দেওয়ার ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয়ে যায়। জটিল কোনো ত্রুটি না থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদন দাখিলের দিনই ভিসা চলে আসে।
২. নারীরা কি মাহরাম ছাড়া ওমরাহ ভিসায় সৌদি ভ্রমণ করতে পারেন?
হ্যাঁ, বর্তমান সৌদি হজের আইন অনুযায়ী ৪৫ বছর বা তদূর্ধ্ব যেকোনো নারী এবং এমনকি কম বয়সী নারীরাও নির্দিষ্ট শর্তে একা বা দলের সাথে ওমরাহ ভিসা নিয়ে ভ্রমণ করতে পারেন। নতুন বিধিমালার ফলে নারীদের পবিত্র ওমরাহ পালন প্রক্রিয়া অনেক সহজতর হয়েছে।
৩. পাসপোর্টের মেয়াদ ৬ মাসের কম থাকলে কি ওমরাহ ভিসা পাওয়া যাবে?
না, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (ICAO) এবং সৌদি ইমিগ্রেশন আইন অনুসারে পাসপোর্টের মেয়াদ সৌদি আরবে প্রবেশের দিন থেকে ন্যূনতম ৬ মাস (১৮০ দিন) কার্যকর থাকা বাধ্যতামূলক। মেয়াদ কম থাকলে প্রথমেই পাসপোর্ট নবায়ন করতে হবে।
৪. ওমরাহ ভিসায় কি জেদ্দা ও মদিনা ছাড়া অন্যান্য শহরে ভ্রমণ করা যায়?
হ্যাঁ, নতুন ভিসা নীতি অনুসারে ওমরাহ ভিসাধারীরা জেদ্দা, মক্কা ও মদিনা ছাড়াও রিয়াদ, দাম্মাম, তায়েফ, আল-উলাসহ সৌদি আরবের যেকোনো ঐতিহাসিক ও আধুনিক শহরে স্বাধীনভাবে পর্যটন করতে পারেন। অভ্যন্তরীণ বিমান বা হারামাইন হাই-স্পিড ট্রেনের টিকিট কেটে ভ্রমণ করা যায়।
৫. ওমরাহ ভিসা বাতিল হলে কি সরকারি ফি ফেরত পাওয়া যায়?
সাধারণত ভিসা প্রসেসিং শুরু হয়ে যাওয়ার পর বা ভিসা ইস্যু হয়ে গেলে মোফা সার্ভিস ফি এবং বীমার অর্থ অফেরতযোগ্য (Non-refundable) হিসেবে গণ্য হয়। তবে ট্রাভেল এজেন্সি আবেদন সাবমিট করার পূর্বেই বাতিল করলে কিছু চার্জ রিফান্ড হতে পারে।
৬. ওমরাহ ভিসা চেকের কোনো সরকারি ফি রয়েছে কি?
না, সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পোর্টালে বা আমাদের ভিসা চেক প্ল্যাটফর্মে পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে যেকোনো ভিসা যাচাই করা ১০০% বিনামূল্যে উন্মুক্ত নাগরিক সেবা। এর জন্য দালালকে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।